রুহুল আমিনের স্বপ্নময় কবুতরের খামার

শখ, ইচ্ছা আর আগ্রহ থাকলে ছোট উদ্যোগও একদিন বড় স্বপ্নের রূপ নিতে পারে তারই উজ্জ্বল উদাহরণ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরুণ কৃষক রুহুল আমিন। মাত্র এক জোড়া কবুতর দিয়ে শুরু করা পথচলা আজ তাকে এনে দিয়েছে ১৫০ জোড়া দেশি কবুতরের একটি আবদ্ধ খামার। কবুতরের বাকবাকুম ধ্বনিতে মুখর এই খামার এখন এলাকায় কৌতূহল, অনুপ্রেরণা ও সম্ভাবনার এক নতুন ঠিকানা।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের হামিন্দাপুর গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন। পেশায় তিনি কৃষক। তবে কৃষিকাজের পাশাপাশি এখন তিনি এলাকায় পরিচিত একজন সফল কবুতর খামারি হিসেবেও।
ছোটবেলা থেকেই কবুতর পালনের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। সেই ভালোবাসা থেকেই একসময় বাড়ির ছোট্ট একটি কোণে খুব সীমিত পরিসরে শুরু করেন কবুতর পালন। শখের সেই ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে বড় এক স্বপ্নে।
রুহুল আমিন জানান, শুরুটা ছিল মাত্র এক জোড়া কবুতর দিয়ে। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তার অভিজ্ঞতা, যত্ন আর পরিশ্রম। সেই সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে খামারের পরিধিও। বর্তমানে তার আবদ্ধ খামারে রয়েছে ১৫০ জোড়া দেশি জাতের কবুতর।
তিনি বলেন, শুরুতে এটি ছিল শুধুই শখের কাজ। কিন্তু এখন সেই শখই সম্ভাবনাময় এক উদ্যোগে রূপ নিয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কবুতর পালন যে লাভজনক হতে পারে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই উপলব্ধি করেছেন।
এই পথচলায় রুহুল আমিনের সবচেয়ে বড় সহযাত্রী তার স্ত্রী সেতু বেগম। সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি কবুতরের দেখভালেও তিনি সমানভাবে পাশে থাকেন। শুধু স্ত্রীই নন, রুহুল আমিনকে সহযোগিতা করেন তার বাবা-মাও। পরিবারের সম্মিলিত সহযোগিতায় খামারটি আরও গোছানো ও পরিচর্যাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কবুতরের খাবার দেওয়া, খোপ পরিষ্কার করা, বাচ্চার যত্ন নেওয়া, অসুস্থ কবুতরের পরিচর্যা সবকিছুতেই পরিবারের আন্তরিক অংশগ্রহণ রয়েছে। ফলে এই খামার এখন শুধু রুহুল আমিনের একার উদ্যোগ নয়, বরং পুরো পরিবারের ভালোবাসা ও পরিশ্রমের একটি সফল উদাহরণ।
বাড়ির আঙিনা জুড়ে সারি সারি খোপ। আর খোপে খোপে ডানা ঝাপটানো কবুতরের ডাক। বাকবাকুম শব্দে মুখর থাকে পুরো পরিবেশ। প্রতিদিনই এই খামার দেখতে ভিড় করেন আশপাশের ছোট-বড় অনেক মানুষ। কেউ আসেন কৌতূহল নিয়ে, কেউবা নতুন কিছু শেখার আগ্রহে।
অনেকেই রুহুল আমিনের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেরাও এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছেন। রুহুল আমিনের চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন। তার ইচ্ছে, একদিন এই খামারে কবুতরের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০০ জোড়ায়।
শখকে পুঁজি করে, ধৈর্য আর শ্রমকে সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে যেতে চান আরও বহুদূর। গ্রামের অনেক তরুণ যখন কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুঁজছেন, তখন রুহুল আমিন দেখিয়ে দিচ্ছেন ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতা থাকলে স্বল্প পরিসরের উদ্যোগও হয়ে উঠতে পারে আত্মনির্ভরতার বড় হাতিয়ার। কবুতর পালন শুধু শখ নয়; এটি হতে পারে বাড়তি আয়, স্বাবলম্বিতা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার একটি কার্যকর পথ।
মাত্র এক জোড়া কবুতর থেকে ১৫০ জোড়ার খামার রুহুল আমিনের এই পথচলা যেন বলে দেয়, স্বপ্ন যদি সত্যিকারের হয়, তবে ছোট শুরু কখনও ছোট থাকে না। শখ থেকে সম্ভাবনা, আর সম্ভাবনা থেকে স্বাবলম্বিতার গল্প লিখছেন গাইবান্ধার এই তরুণ কৃষক।
ভোরের আকাশ/এনউব