কটিয়াদীতে ধানের শীষের শেষ নির্বাচনী জনসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ধানের শীষ প্রতীকের সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল নেমে ছিল।
সোমবার বিকেল ৩টা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ কটিয়াদী সরকারি কলেজের খেলার মাঠে এসে জড়ো হতে থাকেন। ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কটিয়াদী বাজার ও আশপাশের এলাকা। অনেকেই জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন।
বিকেলে অনুষ্ঠিত জনসভায় কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন আকিল, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আশফাক আহমেদ জুন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুজ্জামান কাকন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলামসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “আজ আমাদের দেশ দুটি ধারায় বিভক্ত। একদিকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি বিএনপি, অন্যদিকে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী একটি শক্তি, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়ায় কাঙ্ক্ষিত কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখানকার মানুষ এখনো মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাস্তাঘাট উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম নতুন করে শুরু করা হবে—ইনশাআল্লাহ।”
ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একটি দল ধর্মকে ভোটের হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মা–বোনদের বিভ্রান্ত করছে। এ এলাকার জনগণ ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সবাইকে সকালেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। বিশাল উপস্থিতিতে জনসভাস্থল ও আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র