সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই জমজ ভাইসহ ৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার(২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীর কাশবন সংলগ্ন স্থানে মর্মান্তিক এদূর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হল জমজ দুই ভাই আরেফিন (১৫) আশেকিন (১৫) ও আবির হোসেন (১৪) নামে তিন শিক্ষার্থী। এঘটনায় বেচে যাওয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক শিক্ষার্থীর নাম আদিয়ান ফারিজ (১২)। নিহত জমজ দুই ভাই আরেফিন, আশেকিন নবম শ্রেণি ও আবির হোসেন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস.স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিহত জমজ দুই ভাই উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়িমজলিশ এলাকার ফারুক আহম্মেদের ছেলে।নিহত আরেক শিক্ষার্থী আবির হোসেন সে ফারুক আহম্মেদের বাড়ীর ভাড়াটিয়া আব্দুল হালিমের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে যাওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ জানায়, আমরা চারজন মিলে স্কুলে না গিয়ে ভাটিবন্দর এলাকায় কাঁশবন দেখতে গিয়েছিলাম। একপর্যায়ে সবাই মিলে মেঘনা নদীতে গোসলে নামি। আমি নদী তীরের কাছাকাছি থাকায় বেঁচে যাই। কিন্তু আমার দুই চাচাতো ভাই ও তাদের এক বন্ধু নদী পাড়ের একটি বালুর ট্রলারে ওঠে। ট্রলার থেকে নামার সময় তারা হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। আমার ডাকচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে তাদেরকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আশেকিন ও আরেফিনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আধঘন্টা ব্যবধানে আবির হোসেনের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা জাহেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উপজেলার ভাটিবন্দর এলাকায় মেঘনা নদীতে ৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আবার আধঘন্টার ব্যবধানে নিখোঁজ অপর শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানান, পানিতে ডুবে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু খুবই দুঃখ জনক একটি ঘটনা। ঘটনাস্থলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব