এক বছরেও মেরামত হয়নি জীবননগরের ৪ ব্রিজ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কাজ। স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে সাময়িকভাবে সংস্কার করা তিনটি ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন মানুষ। আর একটি ব্রিজ সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা একাধিকবার পরিদর্শন করলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে আবারও প্রবল স্রোতে ব্রিজগুলোর অবশিষ্ট অংশ ভেঙে পড়লে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টানা ভারি বর্ষণে সিংনগর বাওড়ের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত সিংনগর, উথলী ইউনিয়নের আচামতি, সন্তোষপুর ও মনোহরপুর গ্রামের চারটি ব্রিজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে।
এর মধ্যে মনোহরপুর গ্রামের ব্রিজটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপর তিনটি ব্রিজ স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে ইট, খোয়া ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করলেও সেগুলো এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ব্রিজ দিয়ে শুধু পথচারী, সাইকেল, মোটরসাইকেল ও পাখিভ্যান চলাচল করতে পারলেও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সিংনগর গ্রামের বাসিন্দা আহাদ আলী বলেন, প্রায় এক বছর ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যা হচ্ছে, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
সন্তোষপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুস ছাত্তার বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর অনেক রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা পরিদর্শনে এসেছিলেন। কিন্তু আশ্বাসের বাইরে কোনো কাজ হয়নি। পরে উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু নিজ উদ্যোগে কিছু ইট ও খোয়া দিয়ে সাময়িকভাবে সংস্কার করেছিলেন। সেই সংস্কারের ওপর ভর করেই এখন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই ব্রিজ দিয়েই গ্রামের মানুষ মাঠে যাতায়াত করতেন এবং কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতেন। এখন ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় অনেককে কোমরসমান পানি পেরিয়ে কৃষিজমিতে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিজগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় অনেককে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম—সবকিছুরই অপচয় হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীরা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, চলতি বর্ষায় পানির চাপ বাড়লে ব্রিজগুলোর অবশিষ্ট অংশও ভেঙে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তাই দ্রুত ব্রিজগুলো পুনর্নির্মাণ বা স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ভেঙে যাওয়া চারটি ব্রিজের তথ্য দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশ থাকলে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব