শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রত্যাশার আন্তনগর ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে চলছে। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে ট্রেনটি। গত ১ আগস্ট বিলম্বের মাত্রা প্রায় ৯ ঘণ্টায় পৌঁছায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতিতে ট্রেনটির ওপর যাত্রীদের আস্থাও কমছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন ঘুরে এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটির স্টেশনে পৌঁছানো কিংবা ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা এখন অনেকটাই ব্যতিক্রম। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে পরীক্ষা, চাকরি, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে সড়কপথে যাতায়াত করছেন।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে ব্যবহৃত মিটারগেজ ইঞ্জিনগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ট্রেনগুলো নির্ধারিত গতি ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘ পথ চলার সময় ইঞ্জিনের গতি কমে যাওয়া বা বিকল হয়ে পড়া এবং একদিন শিডিউল বিপর্যস্ত হলে পরবর্তী কয়েক দিন তার প্রভাব অব্যাহত থাকায় নিয়মিত সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় সকাল ৫টা ১০ মিনিট এবং ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়ার সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিট। কিন্তু গত ২৪ জুলাই ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৯টায় এবং ছেড়ে যায় সকাল ১০টা ১০ মিনিটে। সেদিন প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্ব হয়।

এর পরের দিনগুলোতেও শিডিউল বিপর্যয় অব্যাহত থাকে। ২৫ জুলাই ট্রেনটি ৪০ মিনিট বিলম্বে ছাড়ে। ২৬ জুলাই স্টেশনে পৌঁছায় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং ছাড়ে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে। ২৭ জুলাই পৌঁছায় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে এবং ছাড়ে সকাল ৮টায়। ২৮ জুলাই ৩৫ মিনিট বিলম্বে স্টেশনে পৌঁছালেও নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যায়। ২৯ জুলাই সময়সূচি ঠিক থাকলেও ৩০ জুলাই আবার বিলম্ব শুরু হয়। সেদিন ট্রেনটি সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে এসে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে যায়।

এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ৩১ জুলাই ঢাকা থেকে আসা ট্রেনটি রংপুরে বিলম্বে পৌঁছানোয় কুড়িগ্রাম থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় একটি শাটল ট্রেন যাত্রী নিয়ে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। পরে ওই ট্রেন ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের নিয়ে সকাল ১১টায় কুড়িগ্রামে ফিরে আসে। সেদিন যাত্রীদের প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বের শিকার হতে হয়।

১ আগস্ট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেদিন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস পার্বতীপুর পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম থেকে একটি শাটল ট্রেন পার্বতীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেখানে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের নিয়ে বিকেল ৪টায় ট্রেনটি কুড়িগ্রামে ফিরে আসে। ফলে সেদিন যাত্রীদের প্রায় নয় ঘণ্টা বিলম্বের শিকার হতে হয়।

একই ধরনের সমস্যায় পড়ছেন রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রীরাও। গত ১৫ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত সময়সূচি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ সময়ে ট্রেনটি মাত্র চার দিন নির্ধারিত সময়ে চলেছে। বাকি দিনগুলোতে দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাওয়ার পথে ট্রেনটি নয়টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। এ ছাড়া ক্রসিং, যাত্রী ওঠানামা, গন্তব্যে পৌঁছে কোচ পরিষ্কার ও জ্বালানি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে বিলম্ব আরও বাড়ে। একবার সময়সূচি বিপর্যস্ত হলে পরবর্তী কয়েক দিনও এর প্রভাব থাকে।

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী যাত্রী হুমায়ুন কবির সূর্য বলেন, ৩১ জুলাই রাতে কমলাপুর থেকে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টার বেশি দেরিতে ছাড়ে। পরে বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এবং ফুলবাড়ীর আগে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে পার্বতীপুরে পৌঁছাতে সকাল সাড়ে ১০টা বেজে যায়। সেখানে জানানো হয়, ট্রেনটি আর কুড়িগ্রাম যাবে না। পরে শাটল ট্রেনে যাত্রী পরিবহনের ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরিবর্তে তিনি সড়কপথে কুড়িগ্রাম ফেরেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস এখন ভোগান্তির আরেক নাম।’

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিজু সরকার বলেন, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁকে ঢাকা-কুড়িগ্রাম যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু খুব কম দিনই ট্রেন সময়মতো চলে। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে অনেক সময় শুক্রবার সকালের ক্লাসে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয় না।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ আন্দোলন গণকমিটির সমন্বয়ক মো. নাহিদ হাসান বলেন, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে দীর্ঘদিনের পুরোনো ইঞ্জিন ব্যবহারের কারণেই নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি রেলওয়ের অবহেলা ও বৈষম্যের কারণেই পুরোনো ইঞ্জিন সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিকল্প হিসেবে শাটল ট্রেনে যাত্রীদের রংপুর ও পার্বতীপুরে পরিবহন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসমালিকদের সঙ্গে রেলওয়ের কোনো অসাধু চক্রের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে যাত্রীদের রেলবিমুখ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে বাসমালিকদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ নাকচ করেছেন কুড়িগ্রাম রেলস্টেশনের ইনচার্জ কনিকা আক্তার। তিনি বলেন, এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। মূলত ইঞ্জিনসংকটের কারণেই ট্রেনের সময়সূচি ব্যাহত হচ্ছে।

লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ধীমান ভৌমিক বলেন, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনিরহাট, বুড়িমারী ও রংপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ঢাকা থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। একসময় রেলওয়ের পূর্ব জোনে ব্যবহারযোগ্য ইঞ্জিনের সংখ্যা ছিল ১২০টি। বর্তমানে রয়েছে ৭০টি। পূর্ব জোনে চলাচলের জন্য প্রস্তুত ও ব্যবহারযোগ্য ইঞ্জিনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন

উলিপুরে ২৫২ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, মিটারগেজ ট্রেন হওয়ায় ব্রডগেজ ট্রেনের সঙ্গে ক্রসিং, একক লাইনের কারণে অপেক্ষা এবং ইঞ্জিনের সীমিত সক্ষমতাও বিলম্বের অন্যতম কারণ।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. ফেরদৌস বলেন, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের শিডিউল বিপর্যয়ের প্রধান কারণ ইঞ্জিনের স্বল্পতা ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। নতুন ইঞ্জিন সরবরাহ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে কবে নাগাদ কুড়িগ্রাম, রংপুর ও লালমনিরহাট এক্সপ্রেসে নতুন ইঞ্জিন বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।

ভোরের আকাশ/সু.পা

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, শিডিউল বিপর্যয়

শেয়ার করুন: