শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার কাজ শেষ না হতেই ধস

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৫, ১:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

গাইবান্ধার সাঘাটায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার কাজ শেষ হতে না হতেই বৃষ্টিতে ধস শুরু হয়েছে। বাঁধজুড়ে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ার ফলে এ বাঁধের ওপর নির্মাণ করা এলজিইডির ৫ কি.মি. (সাঘাটা-জুমারবাড়ী) সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় ছোট ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও বড় ও মাঝারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলার সাঘাটা, ঘুড়িদহ ও জুমারবাড়ি এই তিন ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষ ছোট-বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকারে পড়ছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন মাঝে মাঝে বালু দিয়ে কোনরকমে ধস ঠেকানোর চেষ্টা করলেও, তা একদিনের বেশি টিকছে না।  ফলে বাঁধটির স্থায়িত্ব এবং জনগুরুত্বপূর্ণ এলজিইডির সড়কটির অস্তিত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটির ওপর উপজেলার ডাকবাংলা হতে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশ পথ পর্যন্ত ৫কি.মি. অংশ এলজিইডি সড়ক নির্মাণ করেন।  এ সড়কটুকু বগুড়া জেলার সাথে সংযোগ হওয়ায় অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ, একারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে সড়কে।  

বাঁধটি সংস্কারের সময় বাঁধের মাটি খোড়াখুড়ি, অতিরিক্ত বালু ব্যবহার, বাঁশের একপাশে আইল নির্মাণ ও বাঁধের ওপরের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই বাঁধে ধসের সৃষ্টি হচ্ছে।  গত চারদিনের প্রবল বৃষ্টির পানির তোড়ে বাঁধজুড়ে ছোট-বড়ধস ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।  এতে করে গত চারদিন ধরে এ পথে বড় ও মাঝারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।  প্রয়োজনের তাগিদে জনসাধারণ জান, অটোতে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শিকারে পড়ছে প্রতিদিন।  এছাড়াও সংস্কার কাজে অতিরিক্ত বালু ব্যবহার করার কারণে মুন্দরহাটি, বাঁশহাটা, সাঁথুলিয়া, হাসিনকান্দি, বসন্তেরপাড়াসহ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানিতে বসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা উকুনপাগলীর মোড় হতে উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের (শেষ সীমানা) বসন্তের পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি. এ বাঁধটি সংস্কারের জন্য গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প গ্রহণ করে।  যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।  তিনটি প্যাকেজে যৌথভাবে বাঁধ সংস্কারের কাজ পান রংপুরের ঠিকাদার হাসিবুল হাসান এবং এমএস রহমান।  বিগত সালের ২০২৩ শুরুর দিকে এ বাধ সংস্কার কাজ শুরু হয়।  প্রথমে বাঁধের গোড়া থেকে গভীর করে মাটি কেটে বাঁধের উপরে তোলা হয়।  পরবর্তীতে যমুনা নদী থেকে ভলগেট দিয়ে বালু এনে বাঁধের গভীরতা পুরণ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের গোড়া কেটে গভীর করা এবং বাঁধের বারাম খোঁড়াখুঁড়ি ও অতিরিক্ত ভেপু ব্যবহার করার ফলে বাঁধটি দুর্বল হয়ে গেছে।  সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির তোরে বালু ধসে যাচ্ছে।

ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অটোরিকশা চালক ফারুক মিয়া (৩৭) বলেন, রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে।  কখন রিকশা উল্টে পড়ে যাই সেই ভয়ে নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বাঁশহাটা এলাকার অটোভ্যানচালক ওসমান গনি (৪০) বলেন, মালামাল আনা নেওয়া করতে পারছি না।  মালামালসহ ভ্যান গর্তে পড়লে আর রক্ষা নাই।  তিনি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, এই মুহূর্তে রাস্তা মেরামত করার কোনো উপায় নেই।  পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, বাঁধটিতে বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েক জায়গায় ধসে গেছে।  বাঁধের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।  ধসে যাওয়া স্থানে মাটি দিয়ে দ্রুত ভরাট করা হবে।

ভোরের আকাশ/জাআ

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংস্কার

শেয়ার করুন: