দিনাজপুরে জমজমাট পাটের বাজার, ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার আশা

ভালো দাম ও বাজারে চাহিদা থাকায় দিনাজপুরের কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় পাটের বেচাকেনা জমে উঠেছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা পাট নিয়ে হাটে আসছেন। জমজমাট এই বাজার ঘিরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ও বিরামপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে পাটের বড় বাজার বসতে শুরু করেছে। প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা এসব হাটে কৃষকদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামগঞ্জ থেকে পাট নিয়ে কৃষকেরা এসব হাটে আসছেন।
বিরামপুর ও খানসামা ছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলার হাটে পাট বিক্রির ধুম পড়েছে। ডিজিটাল পাল্লায় পাটের ওজন, আঁশের মান যাচাই ও দরদাম নিয়ে জমে উঠছে বেচাকেনা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে খানসামা উপজেলায় ১ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় পাট উৎপাদন হয়েছে ১৯ হাজার ২৩৭ বেল। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কমবেশি পাটের চাষ হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, শুধু খানসামা উপজেলাতেই এবার প্রায় ৩৫ কোটি টাকার পাটের বাণিজ্য হতে পারে। উন্নত মানের উজ্জ্বল ও শক্ত আঁশের পাটে বাজারে তুলনামূলক বেশি দাম মিলছে। এতে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকেরা।
বীরগঞ্জ উপজেলার শীতলাই গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রহমান বলেন, চলতি বছর পাটের ভালো দাম পেয়েছেন। পাট চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে এ এলাকার কৃষকদের মধ্যে পাট চাষের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
খানসামা উপজেলার এক পাট ব্যবসায়ী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, পাটের গুণগত মান ভালো হলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। দেশে পাটের চাহিদা অনেক বেশি। কিন্তু উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, ফলে পাটের দামও বেশি। পাটের সংকটের কারণে অনেক জুট মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. ইয়াসমিন আক্তার বলেন, পাট এলাকার কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আবাদ বাড়ার পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, সঠিক সময়ে পাট কাটা, যথাযথভাবে জাগ দেওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর মাধ্যমে মানসম্মত পাট উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা গেলে ভবিষ্যতে খানসামা উপজেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়তে পারে।
ভোরের আকাশ/সু.পা