কিশোরগঞ্জে কন কনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত

ভোরে কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকে পথঘাট ও ফসলের মাঠ।রাতভর বৃষ্টির মতো টপটপ করে পড়ে কুয়াসার পানি।সকাল সকাল সূয্যি মামার দর্শন পেয়েই কাঠফাটা রোদের ঝলকানি।এ যেন বাংলার ভিন্ন এক নৈসর্গিক প্রকৃতি।প্রকৃতিগত সৌন্দর্যের পশরা সবার মঙ্গল বয়ে আনলেও গরীবদের জন্য শীত মানে জীবন যন্ত্রণার আরেক নাম।
কনকনে ঠান্ডা আর কুয়াশায় কিশোরগঞ্জের ১৩ টি উপজেলায় ব্যস্ততা থমকে গেছে
হাড় কাপানো শীতে কাঁপছে কিশোরগঞ্জের ১৩ টি উপজেলা এর মধ্যে ভাটি অঞ্চল ইটনা, মিঠামইন,অষ্টগ্রাম নিকলী, তাড়াইল, হোসেনপুর উপজেলাসহ প্রচন্ড ঠান্ডায় জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।
এসকল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ। যাদের কিনা নুন আনতে পান্তা ফুরায়। স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার পরিজনদের শীত বস্ত্র কিনে দেওয়ার মতন নেই যথেষ্ট পরিমাণে টাকা।
দারুন পৌষ, দিন দিনেই কনকনে শীতের প্রভাব বিস্তার বেড়েই চলছে।শীত যতো শক্তিশালী হচ্ছে, গরীবরা হচ্ছে ততোই দূর্বল।
প্রকৃতিতে বইছে হিম বাতাস। শিশির ভেজা সবুজ ঘাসের ওপর ভোরের সূর্যের আলো যেন হারিয়ে গেছে। সোনালী ঝিলিক দেখা যেন অমাবস্যার চাঁদের মত হয়ে গেছে। ঘাসের মাথায় মুক্তোর শিশির কণা জমেই থাকে।
গত কয়েকদিন ধরে কিশোরগঞ্জে ভোর থেকে বিকাল ৩ঃ০০ টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে ডাকছে চারপাশ।
লক্ষ্য করা গেছে, সকালবেলা দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচল ধীর গতি হয়ে পড়ছে।
যার ফলশ্রুতি অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী,ও শ্রমজীবী শীতের সঙ্গে কুয়াশা জনিত ঠান্ডা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অপরদিকে শীতকে ঘিরে সক্রিয় হচ্ছে গ্রাম অঞ্চলের পিঠাপুলির দোকানগুলো।অন্যদিকে দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না অসহায় গরিব মানুষদের।
শীত বাড়ার সাথে সাথে গরিব মানুষগুলোর কষ্টও বেড়ে গেছে। কারণ তাদের শীতের পোশাক, উষ্ণ আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে । তীব্র শীত ও কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মান ব্যাহত হয়েছে। নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী ও ভাসমান মানুষজন সবচেয়ে বেশি কষ্ট এই শীতে। ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি যেমন ডায়রিয়া, জ্বর, হাঁচি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে । ইতিমধ্যেই ঠান্ডা জনিত রোগ দেখা দিচ্ছে প্রাণীকুলেও।
তাড়াইল উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত হাই স্কুল শিক্ষক মাস্টার মতিউর রহমান জানান গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় শিশু, কিশোর, বৃদ্ধসহ ভোগান্তি সহ অসুখ-বিশকে চরম আতঙ্কে আছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হত-দরিদ্র মানুষ জানান,শীতে ঠিকমতো কাজে যেতে পারেনা,সামর্থ্য নেই পরিবার পরিজনের শীতের পোষাক কিনে দিতে,ঘরে লেপ, কম্বলও নেই, সমাজের বিত্তবানরাও তাদের চোখে দেখেনা বলে আক্ষেপের সুরে বলেন।দুনিয়ার সবাই তেলের মাথায় তেল দেয়।
গোবিন্দপুর ইউনিয়নের পানান গ্রামের রিকশাচালক রইস মিয়া বলেন , ৭-৮ দিন আগে আমার শেষ সম্বল গাভী টা মরে গেছে । টাকার অভাবে স্ত্রী - সন্তানদের শীতের কাপড় কিনে দিতে পারছিনা অনেক কষ্টে আছি। কৃষক রুহুল আমিন বলেন, শীত বেড়ে যাওয়ায় কাজের লোক পাওয়া যায় না । একা একা নিজের কাজ নিজেই করতে হচ্ছে। গোবিন্দপুর সুখী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা ইসহাক সাহেব বলেন, শীতে সর্দি কাশি জনিত রোগে তিনি আক্রান্ত । দিন মজুর মানিক মিয়া বলেন, শীত বেশি হওয়ায় কাজে যেতে পারছি না, সংসারে অভাব লেগেই রয়েছে। প্রকৃতিতে শীত আসে আবার চলেও যায় কিন্তু অসহায় মানুষের কষ্টের শেষ থাকেনা তাই প্রত্যেকে যেন অন্তত আশ পাশের মানুষগুলির সাথে একটু সুখ শেয়ার করে, এতে করে সমাজের বিত্তবানদের নৈতিকতা আরো বিকশিত হবে,রচিত হবে সুদৃঢ় সম্প্রীতি।
মানবতার ফেরিওয়ালা লেখক কলামিস্ট মিজানুর রহমান মামুন বলেন, শিশির ভেজা ঘাসে হাঁটাচলা করলে কুয়াসার পানিতে পা ভিজে যায়।এতে আবার মনে করিয়ে দেয় সমাজের জীর্ণ মানুষগুলির কষ্টের কথা।বিত্তবান ও দানবীর মানুষদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি, যেন প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবেশীদের প্রতি একটু যত্নশীল হয়।
ভোরের আকাশ/মো.আ.