স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় ঈশ্বরগঞ্জে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ঋতু আক্তার (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের শিমরাইল গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে এবং সে পৌর শহরের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।
আজ(৬ সেপ্টেম্বর) শনিবার সকালে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার আগে গতকাল শুক্রবার আনুমানিক বিকেল ৫টার দিকে স্কুল শিক্ষার্থীর বাড়ির রান্নাঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান,স্বজনরা মৃত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে আমাদের কাছে নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) সামিউল ইসলাম বলেন, স্বজনরা নিহত স্কুলছাত্রীকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় এনে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে অভিমানে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বিকেলে হঠাৎ করে চিৎকারের আওয়াজ শুনে স্কুলছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ঋতু তাদের রান্না ঘরের আড়ার সঙ্গে পড়নের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নিহত মেয়ের পরিবার অত্যন্ত ভালো একটি পরিবার। সে পরিবারের কাছে স্মার্টফোন বায়না করেছিল। কিন্তু সচেতন পরিবার হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে স্মার্টফোন কিনে দিতে রাজি হয়নি। এতে অভিমানে ফাঁকা বাড়িতে মেয়েটি এমনকান্ড ঘটিয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ভোরের আকাশ/হ.র