শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আধুনিকতার ভিড়ে বিলুপ্তির পথে ‘হারিকেন’

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৫, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আধুনিকতার ভিড়ে বিলুপ্তির পথে ‘হারিকেন’
আধুনিকতার ভিড়ে বিলুপ্তির পথে ‘হারিকেন’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আধুনিকতার ছোঁয়া এখন বিশ্বময়। দিনবদলের ঢেউয়ে গ্রামেও এখন শহুরে পরিবেশ। কালের এই  বিবর্তনে গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যের এমনই এক অনুসঙ্গ ‘হারিকেন’ যা- বিলুপ্তপ্রায়। 

বৈদ্যুতিক বাতি, চার্জার ও বিদ্যুতের নানা ব্যবহারের ফলে হারিকেনের ব্যবহার আজ আর দেখা যায় না। নতুন প্রজন্মের অনেকে জানেন না, হারিকেন কী, এটির কাজই-বা কী! তবে প্রবীণদের ভাষ্যমতে, একসময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে।

গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে একসময় হারিকেনই ছিল একমাত্র আলোর উৎস। আকাশের আলো নিভে গেলেই সন্ধ্যায় হারিকেন হয়ে উঠতো আধারের অবলম্বন। শিশুদের লেখাপড়া বাসগৃহকে আলোকিত করা, বাজারের কেনাবেচা এমনকি রাতে চলাফেরার জন্যও হারিকেন ছিল গ্রামের মানুষের একমাত্র সারথি। তবে এখন প্রযুক্তির ভিড়ে হারিকেন ছেড়ে বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে গ্রামের মানুষও।

গল্পে গল্পে হারিকেনের কথা বলতেই চমকে যান গাইবান্ধা সদর উপজেলার মাঠেরপাড় গ্রামের বয়োবৃদ্ধা হেনা বেগম (৮৫) বলেন, ‘মুই যখন ছোট আছিলুম, তখন প্রত্যাক সন্ধ্যাবেলাত হ্যারিকেনের কাচের চিকনি খুলি, ধুয়া, মুছি পরিষ্কার করি ক্যারাসিন ত্যাল ঢালি মেচ দিয়া আগুন জ্বালাছোম। আগে হ্যারিকেনের ক্যারাসিন ত্যাল থোয়ার জন্য সবার বাড়িত বাড়িত কাচের বোতলত দড়ি দিয়্যা লাগায় বাঁশের খুঁটিত ঝুলিয়ে রাখা হইতো। এখন কোনটি তার এগল্লা পাবেন। এ দেশ থাকি হ্যারিকেন উঠি গেছে। ’

গাইবান্ধা পৌর এলাকার কলেজপাড়ার বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা ল্যাম্প কিংবা হারিকেনের মৃদু আলো জ্বালিয়ে ছাত্রদের লেখাপড়া করিয়েছি। বাতাসের ঝাপটায় কখনো কখনো আলো নিভে গেছে। আবার কাঠির ম্যাচ অথবা ছাত্র বানসার চুলার আগুনে পাটকাঠি দিয়ে আলো জ্বালিয়ে পড়ালেখা শুরু করাতাম। এখন এসব কিছুই অতীত। সবই স্মৃতি হয়ে আছে আমাদের মাঝে। ’

মাঠেরপাড় এলাকার মুদি দোকানি মালেক মিয়া বলেন, ‘১৫ থেকে ২০ বছর আগে বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় কেরোসিন তেল নেয়ার জন্য মানুষের সিরিয়াল থাকত। গ্রামাঞ্চলের সেই ঐতিহ্যবাহী হারিকেন আজ বিলুপ্তির পথে। এখন পুরো বাজারে মুদির দোকানে কেরোসিন তেল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। ’

সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর এলাকার ৭৬ বছর বয়সি রিকশাচালক কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমি এখন রিকশা চালাতে পারি না। তবে আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমি যখন রিকশা চালাই, তখন হারিকেন ছাড়া রাতে চালানো যেত না। তখন হারিকেন ব্যবহার করতে হতো। আমরা রিকশার নিচে পেডেলের পাশে এটা বসিয়ে রিকশা চালাতাম। ১০-১৫ টাকার কেরোসিন তেল দিয়ে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা চালানো যেত রিকশা।’

ভোরের আকাশ/আজাসা

শেয়ার করুন: