শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কমে গেছে পাথর বিক্রি

উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কায় মধ্যপাড়া পাথরখনি

দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে উৎপাদিত পাথরের বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় এক গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। 

খনির স্ট্যাক ইয়ার্ডগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন পাথর অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। মজুদের জায়গা ফুরিয়ে আসায় আগামী এক মাসের মধ্যে খনিটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে খনি কর্তৃপক্ষ।

খনি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খনির ২৫টি স্ট্যাক ইয়ার্ড পাথরে পূর্ণ। এর মধ্যে রেলওয়ের কাজে ব্যবহৃত ৪০-৬০ মিলিমিটার আকারের ব্যালাস্ট পাথরই রয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার টন। খনির প্রধান দুই ক্রেতা বাংলাদেশ রেলওয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাহিদা ও ক্রয় কমে যাওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষক ও খনি কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে: সরকারি বড় প্রকল্পগুলোতে দেশীয় পাথরের পরিবর্তে ভারত ও ভুটানের পাথরের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজার সংকুচিত হয়েছে।

খনি থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেললাইন দীর্ঘকাল অকেজো থাকায় কম খরচে পাথর সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কপথে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কারণে বাজার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে খনির পাথর। বিস্ফোরক দ্রব্যের ওপর উচ্চ শুল্ক এবং রয়্যালটি বৃদ্ধির ফলে পাথরের উৎপাদন খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে।

২০১৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর খনির দৈনিক উৎপাদন ৭০০ টন থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে খনিটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলেও, সাম্প্রতিক বিক্রি সংকটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পুনরায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপাড়ার পাথরের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের এবং এটি প্রায় ২৫ হাজার পিএসআই চাপ সহ্য করতে সক্ষম। দেশে বছরে প্রায় ২ থেকে ২.৫ কোটি টন পাথরের চাহিদা থাকলেও এর সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হচ্ছে। গত অর্থবছরেও প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পাথর আমদানি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশীয় পাথরের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব।

খনি সংশ্লিষ্টরা এই সংকট উত্তরণে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রকল্পে নির্দিষ্ট হারে দেশীয় পাথর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা, অকেজো রেললাইনটি দ্রুত সংস্কার করে পরিবহন সহজ করা এবং শুল্ক কাঠামো পুনর্নির্ধারণ।

খনি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এম জোবায়েদ হোসেন জানান, স্ট্যাক ইয়ার্ডগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় তারা নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। দ্রুত পাথরের বিক্রি না বাড়লে খনিটিকে বড় ধরনের কারিগরি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

পাথর আমদানিএম জোবায়েদ হোসেন

শেয়ার করুন: