সাইকেল চালিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচারনা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যান্ড মাইক কাঁধে ও সাইকেল চালিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করেছেন গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি।
যেখানে ভোট মানেই সাধারণত মিছিল, মিটিং, সমাবেশ, মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার আর লিফলেটের ছড়াছড়ি কিন্তু এই আসনে একেবারেই ব্যতিক্রমী এক প্রচারণায় নেমেছেন আজিজার রহমান। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক, স্থানীয় একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাইকেল চালিয়ে নিজের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা নিজেই করছেন তিনি। নীরব, সাদামাটা কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা এই সাইকেল-চালানো প্রার্থী এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
জানা যায়, আজিজার রহমান বিএসসি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোদা বকস গ্রামে বাসিন্দা। আসন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি গাইবান্ধা-৩ আসনে ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যন্য প্রার্থীদের মতো তার নেই কোনো বিশাল কর্মীবাহিনী, নেই ব্যানার-ফেস্টুন কিংবা পোস্টার-লিফলেট। তার একমাত্র সম্বল একটি সাইকেল আর একটি হ্যান্ড মাইক। সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে, এক হাতে হ্যান্ডেল আর অন্য হাতে মাইক ধরে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছুটে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামে, এক মোড় থেকে আরেক মোড়ে। যেখানে মানুষের জটলা দেখেন, সেখানেই থেমে নিজের কথা বলেন, ভোট চান।
এবারই প্রথম নয়, এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ২০১৯ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২৪ সালে গাইবান্ধা-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আজিজার রহমান। তবে কোনোবারই বিজয়ের দেখা মেলেনি। তারপরও হাল ছাড়েননি এই স্কুল শিক্ষক।
প্রার্থী আজিজার রহমান বলেন,' আমার টাকা-পয়সা নেই, কর্মীও নেই। তাই আমি নিজেই সাইকেল চালিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। এতে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাতে পারছি। ভালো সাড়া পাচ্ছি, ভালোবাসা পাচ্ছি।'
তিনি আরো বলেন, এই পদ্ধতিতে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারছি। আমার স্বপ্ন এমপি হয়ে জাতীয় সংসদে গিয়ে পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করা।
সাদুল্লাপুর উপজেলার চাঁদকরিম এলাকার বাসিন্দা বাদল মিয়া বলেন, 'আজিজার রহমানের মতো প্রার্থী তারা আগে কখনো দেখেননি। একজন মানুষ একাই নিজের প্রচারণা নিজে করছেন তাও কোনো ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার বা লিফলেট ছাড়া। এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা অনেককেই বিস্মিত করেছে, আবার অনুপ্রাণিতও করেছে। তাই এবার তাকেই ভোট দেওয়া উচিত সকলের।'
এ আসন থেকে মোট ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বী চৌধুরী, জনতার দলের মনজুরুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটি এম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সুরুজ মিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল, স্বতন্ত্র এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান।
এ আসনে ১৪৫ ভোটকেন্দ্রে ৯৫২ কক্ষে মোট ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯০২, নারী ২ লাখ ৫৭ হাজার ২৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র