শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার শুঁটকিমহালে বেড়েছে ব্যস্ততা, বিদেশে রফতানি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

এশিয়ার বৃহত্তম ন্যাচারাল শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। এই মহালেই দেশের সর্বোচ্চ শুটকি উৎপাদন হয়। এছাড়াও জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও রয়েছে বড় বড় শুটকি মহাল। এখানকার উৎপাদিত শুটকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বরাবরের মতো এবারও নাজিরারটেকসহ অন্যান্য শুটকি মহালে শুটকি উৎপাদন চলছে।

বর্তমানে সমুদ্র উপকূলে চলছে শুঁটকি উৎপাদনের উৎসব, আগামি জুলাই মাস পর্যন্ত চলবে শুঁটকি উৎপাদন উৎসব। মৌসুমে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি হয়ে আসছে। এ বছর প্রায় চার’শ কোটি টাকার শুঁটকি রফতানির আশা করছেন উপকূলের শুটকি ব্যবসায়ীরা।

শহরের নাজিরারটেকের সমুদ্র তীরবর্তী বালুচরের প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে ওঠেছে দেশের বৃহত্তম শুটকি পল্লী। এখানে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, যাদের অধিকাংশই নারী। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নাজিরারটেকসহ জেলার উপকূলীয় জেলেপল্লীসমূহে শুঁটকি উৎপাদন চলে। তবে বৃষ্টি না থাকলে বছরের অন্যান্য সময়েও কিছু শুঁটকি উৎপাদন হয়। সাগরের বালিয়াড়িতে বিশেষ উপায়ে তৈরি বাঁশের মাচার উপর কাঁচা মাছ সূর্যের তাপে ৩/৪ দিন শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুটকি। এরপর উৎপাদিত শুটকিগুলো পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। শহরের নাজিরারটেক ছাড়াও মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ জেলার উপকূলীয় সৈকতে শুটকি উৎপাদন হয়।

দেশের বৃহত্তম কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহালে গিয়ে দেখা গেছে, ৫০টির বেশি মহালে বাঁশের মাচায় রোদে বিপুল পরিমাণ মাছ শুঁটকি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্যা, কোরাল, সুরমা, পোপা, চিংড়িসহ প্রায় ২৫ প্রজাতির শুঁটকি রয়েছে। এ শুঁটকি মহালে কাজ করেন প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক। গভীর সাগর থেকে জেলেরা মাছ ধরে এনে এখানে বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক ছাড়াও নুনিয়ারছড়া, খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, সোনাদিয়াসহ জেলার মহেশখালী, উখিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আরো ৩ শতাধিক মহালেও শুঁটকি উৎপাদন চলছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি মৌসুমে নাজিরারটেক শুটকি মহালে মাছের গুঁড়াসহ ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদন হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় চার’শ কোটি টাকার বেশি। উৎপাদিত এসব শুটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। জেলার অন্যান্য এলাকাতেও নাজিরারটেকের প্রায় সমপরিমাণ শুঁটকি উৎপাদিত হয়।

নাজিরারটেক শুঁটকি মহালের ব্যবসায়ী মো. নুরুদ্দিন কোম্পানি জানান, এখানে রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্যা, পোপা, টেকচাঁদা, হাঙ্গর, ফাইস্যা ও নাইল্যা মাছসহ ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরি করা হয়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতিকেজি লইট্যা ৮০০-১৮০০টাকা, ছুরি ৮০০-১৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১৫০০টাকা, পোপা ৫০০-১০০০টাকা, মাইট্যা ৮০০-১৬০০টাকা, কোরাল ১৫০০-২০০০টাকা, রূপচাঁদা ১৮০০-৪০০০ টাকা, ও সুরমা ১৮০০-২৮০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি আ.ক.ম নেয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘প্রায় এক’শ একর এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এ শুঁটকি মহালে রয়েছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক আড়ত। দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি মহাল এই নাজিরারটেক। এখানে ব্যবসায়ীও আছেন প্রায় দুইহাজার। এ মহাল থেকে প্রতিদিন প্রায় দু’শ টন বিভিন্ন জাতের শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন শুঁটকি। যার বাজার মূল্য প্রায় দু’শ কোটি টাকা।

শুঁটকি ব্যবসায়ী এম এজাবত উল্লাহ জানান, জানান শুঁটকি ছাড়াও প্রতি বছর ১২ হাজার টন শুঁটকিগুড়া বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১২০ কোটি টাকা। মাছের খাদ্য তৈরীতে শুঁটকিগুড়া কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শুঁটকিগুড়া সরবরাহ করা হয়।  

কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি ওসমান গণি টুলু বলেন, ‘শহরের নাজিরারটেকের উৎপাদিত শুঁটকি হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় পোপা শুঁটকি রফতানি করে গত বছর ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আয় করে। এ বছর উৎপাদন ভালো হলে শুঁটকি রফতানিতে প্রায় চার’শ কোটি টাকা আয় করতে পারে।

ভোরের আকাশ/জাআ
 

কক্সবাজাররফতানি

শেয়ার করুন: