দুই কিডনি বিকল, দৃষ্টিও হারাচ্ছেন, লাজুকে বাঁচাতে সহায়তার আহ্বান

যে বয়সে পরিবারের হাল ধরার কথা, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহ শহিদ লাজু (৩৭)। মাত্র ৩৭ বছর বয়সেই তার দুই কিডনি বিকল হয়ে গেছে। হারিয়েছেন এক চোখের দৃষ্টিশক্তি, অন্য চোখেও ঝাপসা দেখছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন লাজু। এখন বসতভিটাটুকু ছাড়া তার পরিবারের আর কোনো সম্বল নেই। অসুস্থতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে চাকরিও। চিকিৎসা চালিয়ে নিতে এখন সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছে পরিবারটি।
শাহ শহিদ লাজু সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি গ্রামের বাসিন্দা। একসময় রংপুরের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। স্ত্রী নুরনাহার বেগম, বৃদ্ধ বাবা-মা ও সন্তানকে নিয়ে ভালোই চলছিল সংসার। হঠাৎ চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন লাজু। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুই কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। এরপর থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসার পথ।
প্রায় এক বছর ধরে চিকিৎসা চলছে তার। অসুস্থতার কারণে এখন আর চাকরি করতে পারছেন না। চিকিৎসার খরচ জোগাতে এরই মধ্যে নিজের অধিকাংশ সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বসতভিটাটুকুই পরিবারের একমাত্র সম্বল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চিকিৎসা চললেও দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে ব্যয়ের চাপ। চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য এখন পরিবারটির নেই।
প্রায় ১০ বছর সংসার করার পর লাজু ও নুরনাহার বেগমের ঘর আলো করে আসে একমাত্র সন্তান। শিশুটির বয়স এখন মাত্র দুই বছর। বাবার এমন অসুস্থতায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।
নুরনাহার বেগম বলেন, স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সংসারের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। স্বামীকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আবার পরিবারের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে লাজুর পরিবার এখন প্রায় নিঃস্ব। একজন কর্মক্ষম মানুষের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে তার স্ত্রী ও দুই বছরের শিশুসন্তানসহ পুরো পরিবার চরম সংকটে পড়বে। মানবিক দিক বিবেচনা করে লাজুর চিকিৎসায় সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, ‘লাজুর বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও দুঃখজনক। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তার চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
লাজুর পরিবারের সদস্যদের আশা, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো পাশে দাঁড়ালে তার চিকিৎসা আবারও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন লাজু এবং তার দুই বছরের সন্তানও ফিরে পাবে বাবার স্নেহ-ছায়া।
ভোরের আকাশ/সু.পা