ঈদ সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে নতুন টাকার সংকট, রাস্তায় বেশি দামে বিক্রি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও নারায়ণগঞ্জে নতুন টাকার ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় ব্যাংকে নতুন টাকার সরবরাহ খুবই কম থাকায় গ্রাহকরা বিপাকে পড়েছেন।
ব্যাংকে নতুন টাকা না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন, অন্যদিকে রাস্তায় বেশি দামে নতুন নোট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। ব্যাংকারদের মতে, জেলার মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নতুন টাকা এবার নারায়ণগঞ্জে এসেছে। ফলে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারছেন না।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি নতুন টাকা বিতরণ করা হয় শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখার মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবার ৫৫ কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা জানানো হলেও বরাদ্দ এসেছে প্রায় ২০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০ ও ৫ টাকার কোনো নতুন নোট পাওয়া যায়নি। এছাড়া ১০ ও ৫০ টাকার নোটও খুব সীমিত পরিমাণে এসেছে, আর বেশিরভাগই বড় অঙ্কের নোট।
সোনালী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ কর্পোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, চাহিদার তুলনায় নতুন নোট অনেক কম এসেছে। আমাদের ২০টি শাখা, বিভিন্ন সরকারি অফিস ও বড় গ্রাহকদের মধ্যে নতুন টাকা দিতে হয়। ফলে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে এসে নতুন টাকা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নতুন নোট বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাবুরবাজার ও টানবাজার এলাকায় নতুন টাকার ব্যবসা বেশি চলছে। সেখানে ১০ টাকার এক বান্ডিল ১০০০ টাকার পরিবর্তে প্রায় ১৩৫০ টাকায়, ২০ টাকার বান্ডিলে প্রায় ২৫০ টাকা বেশি, ৫ টাকার বান্ডিলে প্রায় ১৬০ টাকা বেশি এবং ২ টাকার বান্ডিলে প্রায় ১২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
একজন বিক্রেতা জানান, তারা ঢাকার গুলিস্তান থেকে নতুন টাকা কিনে এনে নারায়ণগঞ্জে বিক্রি করেন। ঈদের সময় প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার নতুন নোট বিক্রি হয়।
এদিকে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, ব্যাংকে নতুন টাকা না পেলেও রাস্তায় সহজেই বেশি দামে নতুন নোট পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থও গুনতে বাধ্য হচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক বলেন, দেশে অনেক নোট পুরোনো হয়ে গেছে, তাই নতুন টাকার প্রয়োজন রয়েছে। তবে শুধু ঈদের সময় না দিয়ে সারা বছর কিছুটা করে নতুন টাকা বিতরণ করা হলে ঈদের সময় এমন সংকট তৈরি হতো না।
ভোরের আকাশ/ র.ই