ফরিদপুরে জমি দখল নিয়ে অসহায় পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ

জমি সংক্রান্তের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় ফরিদপুর শহরের দক্ষিন চরকমলাপুর এলাকায় রাশেদা আক্তারসহ তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ভাগিনা মনি শিকদার (৩৫) এর বিরুদ্ধে।
এদিকে ঘটনার ন্যায় বিচারের সার্থে ভুক্তভোগী রাশেদা আক্তার ৬ জনের নাম উল্লেখসহ মনি শিকদারকে প্রধান আসামী করে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অপরদিকে ঘটনার পর রাশেদা আক্তারের কন্যা সুমাইয়া আক্তার কোতয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও ভুক্তভোগী রাশেদা আক্তারের অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে তারই আপন ভাগিনা মনি শিকদার এর সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিস্পত্তির জন্য ফরিদপুরের বিজ্ঞ আদালতে ভূমি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা চলমান ছিলো।
তবে আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় গত শুক্রবার সকালে ঐ মামলার বিবাদী মনি শিকদারের এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমির সীমানায় প্রবেশ করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়।
এ সময় জমি দখল করতে বাধা দিলে ভুক্তভোগী রাশেদা আক্তার ও তার দুই কন্যা সন্তান সুমাইয়া ও সৃষ্টির উপর বর্বরচিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষ মনি শিকদার। এমনকি হামলার সময় মনি শিকদার শ্লীলতাহানীর ঘটনাও ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ দিকে আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ১২ লাখ টাকা ও স্বর্ন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় হামলার ঘটনায় থানা পুলিশ বা কাউকে না বলার জন্য প্রাণ নাশের হুমকিও প্রদান করে বলে মামলা উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে গুরতর আহত রাশেদা ও তার দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে রাশেদা অভিযোগ করে জানায়, আমার পৈত্রিক ও ক্রয়সুত্রে নামজারীকৃত সম্পত্তি দখল করতে ভাগিনা মনি শিকদার এর আগেও বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাকে ৮ দিন আটকিয়ে রাখলেও পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে।
এ ছাড়াও এ সম্পত্তি জোড় দখলের জন্য আমার অন্তত ৪ টি বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। সর্বশেষ ঘটনার দিন জমি মাপার নামে মনি সিকদার তাঁর দলবল নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করে।
যদিও জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার বিষয়ে সকলকে অবহিত করার চেষ্টা করলেও মনি শিকদার তার সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল নিয়ে অতর্কিত ভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। তাই ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক ন্যায় বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগী রাশেদা আক্তার।
এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত মনি শিকদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। আর কোতয়ালী থানা পুলিশের এস আই সিরাজ জানান, ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষই লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই