টঙ্গীতে বাবা ও ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় বড় ছেলে আটক

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে একই পরিবারের তিন সদস্যের মধ্যে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পরিবারের বড় ছেলে সাইফুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ও জিআরপি পুলিশ বনমালা এলাকা থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (৪৮) এবং তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)।
শোয়েব রাজধানীর উত্তরা আনোয়ারা মডেল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন। আটক সাইফুর রহমান একটি ওষুধ কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. সোহেল আগে প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় জমি কিনে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। প্রায় ১৮ মাস আগে তার স্ত্রী মারা যান। এরপর দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাতে সোহেল ও তার দুই ছেলে একই বাসায় ঘুমিয়েছিলেন। ভোররাতে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। পরে ঘরের ভেতর থেকে শোয়েবের লাশ এবং বাসার পাশের রেললাইনের কাছ থেকে সোহেলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
শোয়েবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল।
দুই হাতের রগও কাটা ছিল। অপরদিকে সোহেলের মরদেহ রেললাইনের পাশে পাওয়া যায়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশেও জখমের দাগ ছিল। এই অবস্থায় দুটি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। দুটি লাশই ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহত সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমানকে (২৭) আটক করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৭ মিনিটের সময় বড় ছেলে সোহান তার বাবা মো. সোহেলকে অসুস্থ অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সাইফুরের সাথে আরো একজন ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে আরেকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘মাদানী আলিফ’ নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
ঘটনাস্থল সোহেলের প্রতিবেশী আব্দুল বারেক জানান, এই পরিবারের মধ্যে কোনো খারাপ কিছু দেখেননি তিনি। তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ ছিল না। ঘটনার আগের দিন সোহেল তার কাছ থেকে এক শ টাকা ধার নিয়েছিল। শান্ত পরিবারে কেন এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে চিন্তিত তারা।
টঙ্গী জিআরপি পুলিশের ইনচার্জ নুরে আলম বলেন, ‘ভোররাতে সোহেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন রবিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে রাত ১টা ০৭ মিনিটে কাটা পড়ে সোহেল মারা যায়। আর সোহেলের ঘর থেকে তার ছেলের লাশ উদ্ধার হয়।
এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭) কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব