কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমলেও তীব্র ভাঙনে দুর্ভোগ অব্যাহত

কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি ক্রমাগত কমলেও জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে এখনো জলাবদ্ধতা কাটেনি।
অন্যদিকে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলার প্রায় সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৫ দশমিক ৩৪ মিটার, তালুকশিমুলবাড়ী পয়েন্টে ২৯ দশমিক ৮৩ মিটার এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৯ দশমিক ১৩ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৫ দশমিক ৩৬ মিটার, এ-হাটিয়া পয়েন্টে ২৪ দশমিক ০০ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২২ দশমিক ৮৭ মিটার রয়েছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানিও কমে ২৮ দশমিক ৮০ মিটারে নেমে এসেছে। সবকটি নদীর পানিই বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে।
তবে নদীর পানি কমলেও জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়ে গেছে। বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়কে জমে থাকা পানি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। অনেক পরিবার এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি।
এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ডুবে থাকা আমন ধানের বীজতলা, সবজি, পাটসহ বিভিন্ন আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে চাষাবাদ শুরু করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন গবাদিপশুর মালিকরা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় মাঠের ঘাস ও চারণভূমি নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক অতিরিক্ত দামে খড় ও পশুখাদ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অন্যদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বসতভিটা, আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ দিন-রাত আতঙ্কে কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত কার্যকর ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগের শেষ হয়নি। জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, ফসলহানি এবং গোখাদ্যের সংকট মিলিয়ে তারা এখন নতুন এক মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরীর কার্যক্রম চলছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/রই