শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাউজানে একের পর এক খুনে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। 

রাজনৈতিক বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধী চক্রের সক্রিয়তাকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে একাধিক হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

সর্বশেষ রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে। এই হত্যাকাণ্ড আবারও সামনে এনেছে উপজেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে চৌমুহনী বাজার এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রধারীরা একটি অটোরিকশায় করে এসে মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড গুলি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে হামলার দৃশ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাকসুদ হত্যার পর স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন রাজনৈতিক বিরোধ, কেউ বলছেন স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, আবার কেউ অর্থনৈতিক স্বার্থকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের দাবি, কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন বিভিন্ন বালুমহাল ও ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এসব বিরোধ অনেক সময় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

রাউজানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নতুন কোনো বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময় স্থানীয় রাজনীতি, আধিপত্য এবং ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আগে বিরোধগুলো অনেক সময় স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। 

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাজনীতি যার যার বিষয়, কিন্তু সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে এটাই সবার প্রত্যাশা।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাউজানের কিছু দুর্গম পাহাড়ি এলাকা অপরাধীদের জন্য আত্মগোপনের সুযোগ তৈরি করে। অভিযানের খবর পেলে অনেকেই এসব এলাকায় আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে কোনো ঘটনার পর দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। 

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাউজানের মতো চট্টগ্রামের আরও কয়েকটি উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধী চক্রের বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। 

বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে স্থানীয় পর্যায়ের অপরাধী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের বিস্তার এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। রাউজানের বাসিন্দাদের বড় একটি দাবি হলো অপরাধীদের পরিচয় নয়, অপরাধকেই গুরুত্ব দিতে হবে। 

তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় যদি অপরাধীদের রক্ষা করার ঢাল হয়ে যায়, তাহলে সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের পর অভিযান চালালেই হবে না; দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাকসুদ হত্যার পর তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। 

একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেয় না, একটি পরিবারকে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয় এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

রাউজানের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে কেন বারবার একই ধরনের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

আরও পড়ুন

টেকনাফে ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

রাউজানের মানুষ এখন আর নতুন কোনো সংঘর্ষের খবর শুনতে চান না। তারা চান নিরাপদ পরিবেশ, স্বাভাবিক জীবন এবং এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। কারণ একটি জনপদের শান্তি শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয় এটি নির্ভর করে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের ওপর।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

রাউজানমাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ

শেয়ার করুন: