রূপগঞ্জ
বেপরোয়া গতির যানে কাঞ্চন-ছনপাড়া সড়ক যেন মরণফাঁদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন থেকে ছনপাড়া পর্যন্ত সড়কটি বর্তমানে এলাকাবাসীর জন্য যেন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহন, প্রয়োজনীয় জেব্রা ক্রসিংয়ের অভাব, অপরিকল্পিত পার্কিং এবং প্রতিদিনের ছোট-বড় দুর্ঘটনায় এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। রাস্তার প্রস্থ তুলনামূলকভাবে কম হলেও যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
পুবেরগাঁও গ্রামের উকিল উদ্দিন মোল্লা জানান, সকালে ও বিকেলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক দিয়ে বেশি চলাচল করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নেই কোনো স্পষ্ট জেব্রা ক্রসিং বা গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এতে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেলের কারণে পথচারীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক সময় শিশু ও বয়স্করা রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বারেক মোল্লা জানান, সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য দোকানপাট ও আবাসিক এলাকা। কিন্তু রাস্তার প্রশস্ততা না বাড়িয়ে একইভাবে ভারী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে ছনপাড়া ও কাঞ্চন বাজার অংশে প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো সংঘর্ষ, ধাক্কাধাক্কি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহ আগে আমার স্ত্রী এক্সিডেন্টে মারা যায়।
রানিপুরা গ্রামের শিক্ষার্থী রোমান জানান,আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি রাস্তা পারাপারের সময়। এই চাপা রাস্তায় প্রচুর গাড়ি চলে। আমাদের স্কুলের সামনে কোন স্ট্রিট ব্রেকার নাই।কোন জেব্রা ক্রসিং নাই।
ভোলাবো গ্রামের ইব্রাহিম জানান, এখানে অনেক মানুষ রোড এক্সিডেন্টে মারা গেছে। অনেকের অঙ্গহানি হয়েছে। এই সড়কটি এখন আতঙ্কের আরেক নাম। এই সড়কটি দুর্ঘটনা একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, “কাঞ্চন-ছনপাড়া সড়কে দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, পুলিশ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রাস্তার প্রস্থ বৃদ্ধি ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার।”
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু প্রশাসনিক আশ্বাসে নয়, বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি। দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট স্থানে ইউ-টার্ন ব্যবস্থা, সড়কে পর্যাপ্ত লাইটিং এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি না বাড়ালে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। পাশাপাশি পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে এবং নির্ধারিত স্থান দিয়েই রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে দ্রুতগতি, জেব্রা ক্রসিংয়ের অভাব ও দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে কাঞ্চন-ছনপাড়া সড়ক এখন এলাকাবাসীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এ সড়ক যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাক্ষী হতে পারে—এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করছেন।
ভোরের আকাশ/ র.ই