ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অগ্রগতির ২৩৯ বছর: গর্বিত ময়মনসিংহ

ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক গৌরবোজ্জ্বল নাম ময়মনসিংহ। ১৭৮৭ সালের ১ মে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে অঞ্চলটিকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে শুরু—আজ ২৩৯ বছরের দীর্ঘ পথচলা পেরিয়ে এক সময়ের উপমহাদেশের বৃহত্তম এই জেলা পরিণত হয়েছে একটি সমৃদ্ধ বিভাগে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের নানা দিক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে গাজীপুর, পূর্বে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা বেষ্টিত ময়মনসিংহ প্রকৃতি ও জীবনের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। নদী, হাওর, বনভূমি ও গ্রামীণ জীবনের অপূর্ব মেলবন্ধন এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য।
‘হাওর, জঙ্গল, মইষের শিং—এ নিয়ে ময়মনসিং’—প্রচলিত এই প্রবাদই এর জীবনচিত্রকে জীবন্তভাবে তুলে ধরে।ময়মনসিংহ নামের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক সূত্র। ধারণা করা হয়, মোঘল আমলের সাধক মোমেন শাহ-এর নামানুসারে ‘মোমেনশাহী’ থেকে ‘ময়মনসিংহ’ নামের বিবর্তন ঘটে।
অন্যদিকে সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র নাসির উদ্দিন নসরত শাহ-এর নামে ‘নাসিরাবাদ’ নামে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে জেলা শহরের ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি পায়।প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রথমে খাগডহর এলাকায় কাচারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তা ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে ১৭৯১ সালে সেহড়া মৌজায় ‘নাসিরাবাদ’ নামে জেলা শহরের গোড়াপত্তন ঘটে।
একটি ডাক বিভ্রাটের ঘটনার জেরে নাসিরাবাদ রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ময়মনসিংহ’ রাখা হয় এবং ১৯০৫ সালে পৌরসভার নামও একইভাবে পরিবর্তিত হয়—যা আজকের ময়মনসিংহ শহরের পরিচয় বহন করছে।
ভোরের আকাশ/আ.র