শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

খানাখন্দে ভরা চাষাঢ়া-শিমরাইল সড়ক, দুর্ভোগ চরমে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল (চাষাঢ়া-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল) সড়কের আইইটি স্কুল থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরে গেছে। এর মধ্যে আইইটি স্কুল থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটি একেবারেই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

প্রায়ই এক কিলোমিটার সড়ক এখন বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ অংশে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তগুলো এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলের সময় যাত্রী ও চালকদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছে। প্রায় সময় উল্টে যাচ্ছে অটোসহ নানা ধরণের যানবাহন। সড়কটি এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন বড় ধরণের বড় ধরণের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ স্থায়ীভাবে সংস্কার করছে না।

জরুরী ভিত্তিতে এ সড়কের বিভিন্ন স্থানের সৃষ্টি হওয়া খানাখন্দ ও গর্তগুলো জরুরী ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে মেরামত করার দাবি জানান। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরেজিমন গিয়ে খানাখন্দের স্থানে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল (চাষাঢ়া-আদমজী ইপিজেড-শিমরাইল) সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কটি দিয়ে আদমজী ইপিজেড, নারায়ণগঞ্জ সাইলো, পদ্মা ও মেঘনা জালানী তেল ডিপোসহ অসংখ্য মিল-কারখানায় কাভার্ডভ্যান, ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি চলাচল করছে। এ ছাড়াও অটোরিক্সা, মিশুক, সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ব্যাটারী চালিত রিক্সাসহ নানা ধরণের যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে।

এ সড়কটি দিনে-রাতে সব সময়ই ব্যস্ত থাকছে। খবর নিয়ে জানা যায়, এ সড়কটির শিমরাইল থেকে আইইটি স্কুল এলাকার রেললাইন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ও আইইটি স্কুল এলাকার রেললাইন থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে পড়েছে। সওজের অধীনে থাকা অংশটুকুতে এখন আর খানাখন্দ নেই। খানাখন্দ ও গর্তগুলো মেরামত কাজ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও সুমিলপাড়া পর্যন্ত সওজ কর্তৃপক্ষ নতুন করে কাপেটিং কাজও সম্পন্ন করেছেন।

ফলে নির্বিঘ্নে সওজের অধীনস্থ অংশ দিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে। কিন্তু আইইটি স্কুল এলাকার রেললাইন থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে থাকা অংশটুকুর বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরে গেছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, আইইটিস্কুলের মডেল ডি গ্রুপের কারখানা ও আনোয়ারা ফ্যাশন লিঃ কারখানার সামনের খানাখন্দ রয়েছে। এ খানাখন্দগুলো স্থায়ীভাবে মেরামত করা হয়নি। আনোয়ারা ফ্যাশনের সামনেও রয়েছে বড় বড় গর্ত। এদিকে আইইটিস্কুল থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটিতে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। গর্তগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে আরো বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। খানাখন্দের এ স্থানটি অতিক্রম করতে গিয়ে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ও হাড়জণিত রোগ আক্রান্ত ব্যক্তিরা চলাচলের সময় নানা সমস্যায় পড়ছেন।

বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও অসুস্থ রোগীরা খানাখন্দের কারণে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। সরেজমিন গিয়ে গর্তে বৃষ্টি পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। গর্তের স্থান দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তি পড়ছে যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ শহরে সরকারী তোলারাম বিশ^বিদ্যালয় কলেজ, নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ ও নারায়ণগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে। তাদের অনেকেই এ বেহাল সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিনই খানাখন্দের অংশটুকু পার হতে নানা ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়াও কিল্লার পুল এলাকাও খানাখন্দ দেখা গেছে। অটো চালক আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমল থেকেই এ সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় গত দুই বছর ধরে সড়কটি এ বেহাল অবস্থায় আছে। এতে প্রায়ই সময় অটোরিক্সাসহ নানা ধরণের যানবাহন উল্টে যায়। খানাখন্দের কারণে গাড়িগুলো বিকল হয়ে পড়ছে। এতে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। আরেক অটো চালক মিয়া বলেন, আইইটি স্কুল থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটিতে বড় বড় গর্তের সৃস্টি হয়েছে। খানাখন্দের কারণে অটোসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে উল্টে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় আমার অটো গাড়িটি খানাখন্দ এলাকা দিয়ে চালানোর সময় ক্রস (গাড়ির যন্ত্রাংশ) ভেঙ্গে যায়।

এতে আমার দুই হাজার টাকা গুণতে হয়েছে। এ সময় তিন ঘন্টা অটো চালাতে পারেনি। আইইটি স্কুল এলাকার বাসিন্দা হাবিব মিয়া বলেন, আইইটিস্কুল থেকে হাজীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটি খুঁড়ে খুঁড়ে তিতাস গ্যাসের পাইপের লিকেজ মেরামত করা হয়েছে। এরপর থেকে উক্ত অংশটুকু আর মেরামত না করায় এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এ সড়কটি সংস্কার করার জোর দাবি জানাচ্ছি। মিশুক চালক আমান বলেন, এ সড়কটি এখন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। মিজমিজি এলাকার বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন, এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় বিড়ম্বনার সড়কে পরিণত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খানাখন্দের কথা স্বীকার করে বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের প্রকল্পের সাথে এ সড়কটিও মেরামত কাজ করার জন্য দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটি মেরামত করার জন্য টেন্ডারও আহ্বান করা হয়েছে।

পথচারী আমিনুল ইসলাম জানান, অনেকবারই এই সড়কের রাস্তা সংস্কার হয়েছে কিন্তু বারবার নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা স্থানীয় হিসাবে আমাদের দাবি এটাতো স্থায়ী সমাধান করার।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক  অ্যাডভোকেট মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান স্যার এই রাস্তার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। অতি শীঘ্রই এই রাস্তার সংস্কার তুই শীঘ্রই শেষ হবে।

ভোরের আকাশ/আ.র

খানাখন্দে ভরা সড়ক

শেয়ার করুন: