শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঝিনাইদহে ৬ বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি মডেল মসজিদের

খুলনা প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

ঝিনাইদহ মডেল মসজিদের উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে স্থানীয়দের প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মাঝখানে তৈরি হয়েছে হতাশার দেয়াল।

অথচ উদ্বোধনের তখন তড়িঘড়ি করে ইমাম, খাদেম ও মোয়াজ্জিন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তারা এখন নিয়মিত সরকারি বেতন তুলছেন। জেলায় নির্মানাধীন ৫টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ এখন পর্য়ন্ত শেষ হয়নি। ঠিকাদারেরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মসজিদের নির্মাণ শেষ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত সকল ঠিকাদারই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

সরেজমিন শহরের ওয়াপদা এলাকার জেলা মডেল মসজিদে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পড়ে রয়েছে। ভবনের রংয়ে শ্যাওলা ধরে গেছে। মসজিদের এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে।

মসজিদের বিভিন্ন অংশে টাইলস বসানো থেকে শুরু করে দরজা লাগানো, রং করা, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাসহ অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া ইসলামি সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের অধিকাংশ জিনিসপত্র এখন পর্যন্ত আনা হয়নি।

জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে ঝিনাইদহ জেলায় ৭টি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি মসজিদে ইসলামিক ট্রেনিং ও অটিজম সেন্টার, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের জায়গা, কনফারেন্স ও গেষ্ট রুমসহ ফুলের বাগান রয়েছে। চুক্তিপত্র মোতাবেক এ সকল মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৮৭ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার টাকা।

এ পর্যন্ত কর্মরত ঠিকাদারদের পরিশোধ করা হয়েছে ৫৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর মসজিদগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কোটচাঁদপুর উপজেলা মডেল মসজিদ বাদে বাকি ৬টি মসজিদের কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি।

এসব মসজিদ হস্তান্তরের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তারা দাবি করেছেন, খুব দ্রুতই কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে মসজিগুলো হস্তান্তর করার হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঝিনাইদহের এক কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ে জেলার ৬টি মডেল মসজিদের কাজ শেষ না হওয়ায় আমরা সরকারে ওপর মহলকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। তবে অধিকাংশ ঠিকাদার সেসময়ের ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।

শহরের ব্যাপারী পাড়ার এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিন মোল্লা বলেন, ‘যখন মডেল মসজিদগুলো তৈরি হচ্ছিল, তখন আমাদের মনে বেশ আশা জেগেছিল। এত সুন্দর মসজিদ হবে, আমরা নামাজ পড়ব। তবে তার কিছুই এখন পর্যন্ত হলো না। হাসিনা পালানোর পর মসজিদের ঠিকাদারেরা পালিয়ে গেছে। ফলে মসজিদের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। আল্লাহর ঘর নিয়ে মানুষ এমন প্রতারণা করে তা আমাদের জানা ছিল না।

 জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, স্বেরাচারী হাসিনা সরকারে লোকজন সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি করেছে। তারা মসজিদ-মন্দির কোনা জায়গাতেই দুর্নীতি বাকি রাখেনি। আমাদের জেলার মসজিদগুলার কাজ দ্রুত শেষ করে মসুল্লিদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক। নতুবা আওয়ামী লীগের যেসকল ঠিকাদার এসব কাজ নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে সেগুলো পুনরায় টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হোক।’

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রককৌশলি জেরাল্ড ওলিভার গুডা জানান, মডেল মসজিদগুলোর সময়সীমা শেষ হলেও কয়েক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে সেমসয় আতিবাহিত অনেক ঠিকাদাররা আত্মগোপনে রয়েছেন। এজন্য বেশ কয়েকবার তাদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি আমাদের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। নির্দেশনা পেলে খুব শিগগিরই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে এ সকল মসজিদের কাজ শেষ করে মসুল্লিদের নামাজের উপযোগি করা হবে।

ভোরের আকাশ/মো.আ.

নির্মাণ কাজে ধীরগতিমডেল মসজিদঝিনাইদহ

শেয়ার করুন: