নলডাঙ্গায় শামীম-সাব্বিরের দাফন সম্পন্ন, স্বজনদের আহাজারি

সৌদি আরবে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুই প্রবাসী শামীম হোসেন ও সাব্বির আহমেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর নিজ নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত শামীম হোসেন উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। অপরদিকে সাব্বির আহমেদ (৩০) একই এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে।
এর আগে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর শনিবার সকালে ঢাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
দাফনের সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া নলডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বুলবুল, খাজুরা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুর রফ, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জরুল ইসলাম ভোট্টসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার জানান, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গার তিনজন নিহত হন। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলামের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় দেশে আসে। বাকি দুজন শামীম ও সাব্বিরের মরদেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার দেশে আনা হয়েছে। তাদের শেষযাত্রার খরচও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে শামীম ও সাব্বিরের মরদেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় আঙুলের ছাপসহ প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে স্বজনদের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
শামীমের মা শাহিনুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের শরীর এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে চেনার কোনো উপায় ছিল না। তার বাবা জাকির হোসেনের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার পর ছেলের পরিচয় নিশ্চিত হয়। অবশেষে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরেছে।
শামীমের স্ত্রী মিতু খাতুন জানান, মৃত্যুর আগের দিন ভিডিও কলে শেষবারের মতো মেয়েকে দেখেছিলেন শামীম। তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তান ছাফা জান্নাতের বয়স মাত্র দুই মাস। প্রবাসে থাকতেই মেয়ের নাম রেখেছিলেন শামীম। প্রতিদিন অন্তত দুবার ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন তিনি। মেয়ের আকিকার জন্যও টাকা পাঠিয়েছিলেন। স্বামীর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর মেয়েকে নিয়ে কবরের পাশে গিয়ে দোয়া করার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
অন্যদিকে সাব্বিরের বাবা গোলাম রাব্বানী জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে তার ছেলে সৌদি আরবে যান। প্রবাসে থাকতেই মুঠোফোনের মাধ্যমে ছেলের বিয়ে দেওয়া হয়। কথা ছিল, আগামী ঈদে দেশে ফিরে পুত্রবধূকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে আনবেন সাব্বির। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে ছেলের মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো পুত্রবধূ বাড়িতে এসেছে, অথচ স্বামীকে দেখার সুযোগ পেল না। এখন সে স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের ওই সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন তিনজন। গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় রবিউল ইসলামের মরদেহ দেশে আসে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত করে শনিবার শামীম ও সাব্বিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভোরের আকাশ/আ.র