টেকনাফে পাহাড় থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়া পাহাড় এলাকা থেকে জাহেদ হোসাইন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে পাহাড়ি এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত জাহেদ হোসাইনের স্বজনদের অভিযোগ, মঙ্গলবার একই এলাকার আলম, গুরামিয়া ও হোসেন নামের কয়েকজন কৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও জাহেদের সন্ধান না মেলায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বুধবার সকালে স্থানীয়রা কম্বনিয়া পাহাড় এলাকায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহেদ হোসাইনের লাশ উদ্ধার করে। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দের ভিড় জমে যায় এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহতের স্বজনরা জানান, জাহেদ হোসাইনের সঙ্গে আলম ও গুরামিয়াদের দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার কথা-কাটাকাটি ও হুমকির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা। স্বজনদের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে জাহেদকে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জাহেদ হোসাইন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান আলির ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বলে জানান পরিবার সদস্যরা। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি জমি বিরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অন্যান্য জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
ভোরের আকাশ/র.ই