যমুনায় পানি কমায় বাড়ছে নদী ভাঙন, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন

পাবনার বেড়া উপজেলা পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নে যমুনার পানি কমলেও আকস্মিক ভাবে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বিদ্যুৎ খুঁটিসহ বিভিন্ন গাছপালা।
কল্যাণপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন বা কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি ভাঙন চলে আসায় এটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশাল এলাকার হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়বেন।
নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গার, কল্যানপুর চর, বক্তারপুর, চর সিংহাস, লেউলাইপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামে। যমুনা নদীর এই আকস্মিক ভাঙনের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ইতিমধ্যেই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
২৯ সেপ্টেম্বর নদীগর্ভে বিদ্যুতের খুঁটি বিলীন হওয়ায় টানা ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। কল্যাণপুর এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কতটা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে তা এতেই প্রমাণ করে।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি থাকে যে, রাতের আঁধারে বা কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবাদি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভিটামাটি সরানোর মতো পর্যাপ্ত সময়টুকুও তারা পান না। যমুনা পাড়ের এই মানুষ গুলোর মুল দাবি একটাই তারা কোনো ত্রাণ বা সামান্য অনুদান চান না তারা চান টেকসই নদী রক্ষা বাঁধ ও সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। সরকার যেন প্রতিবছর টুকরো টুকরো বরাদ্দ না দিয়ে একবারে স্থায়ী নদী শাসনের ব্যবস্থা নেয়, এটাই স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবি।
কল্যানপুর ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) মো. আলাউদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়ও যে জায়গাটিকে সুরক্ষিত মনে করেছিলাম হঠাৎ রাত ৮টার দিকে আকস্মিক ভাঙ্গনে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের খুটি (পোল) নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কিছু কিছু সময় পরিস্থিতি এতটাই অপ্রত্যাশিত হয় যে খুটি থেকে ট্রান্সফরমার খুলতেই সময় পাওয়া যায় না। অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি থেকে ভাঙন এলাকায় প্রায় ২৫০ মিটার দূরত্ব। খুব তারাতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি।
বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ-বিভাগের প্রকৌশলী মো. হায়দার আলী জানান, কল্যানপুরসহ কয়েকটি জায়গায় যমুনা তীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি। বিষয়টি খুব গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই নদীর ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র