কক্সবাজারে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে স্বামী পালিয়ে গেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিদা বেগম (২৮) একই এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে সৌদি প্রবাসী মকসুদ আহমদের স্ত্রী। তিনি সদর ইউনিয়নের আন্নর আলী মাতবর পাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে।
স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহিদার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়৷
নিহতের পিতা বদিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, “সকাল থেকে আমার মেয়েকে মারধর করছিল তার স্বামী। একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে সে পালিয়ে যায়।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে শাহিদা বেগমের সঙ্গে মকসুদ আহমদের বিয়ে হয়। দম্পতির কোনো জৈবিক সন্তান না থাকলেও তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি পালিত কন্যা রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাড়ির চারপাশে পাকা দেয়াল ও গেট বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। জুমার নামাজের পর তাদের কন্যা মাহির কান্নাকাটি শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বিষয়টি জানতে পারেন এবং পুলিশে খবর দেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মকসুদ দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইতেন এবং এ নিয়ে প্রায়ই শাহিদার ওপর নির্যাতন চালাতেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, “জুমার নামাজের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করি। ঘটনার পর থেকেই স্বামী পলাতক রয়েছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম জানান, “দক্ষিণ মেহেরনামা মুরারপাড়া এলাকা থেকে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা সেটি তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ