শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিয়ামতপুরে চার খুন

গ্রামবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া, পুলিশের মতবিনিময় সভা

‎‎নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

‎নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে সংঘটিত বহুল আলোচিত চার খুনের ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারেন। তাই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত দাবি গ্রামবাসী। 
‎
‎গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে গ্রামবাসী বাহাদুরপুর মাদ্রাসা মাঠে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা স্থগিত করে রাজনৈতিক নেতা ও পুরো বাহাদুরপুর গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় উপস্থিত নারীসহ গ্রামবাসীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে  বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। 
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমানের পরিবারে জমি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাঁর বাবা নমির উদ্দিন ছেলে জীবিত অবস্থায় অধিকাংশ সম্পত্তি ছেলের নামে লিখে দেন। এতে বোনের সঙ্গে নমিরউদ্দিনের ছেলের পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। গ্রামবাসী জানান,নমির উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী হালিমা বেগম মৃত্যুর আগে জমি লিখে দেন। তার মৃত্যুর  পরপর দুটি বিয়ে করেন নমিরউদ্দিন। কিন্তু এ দুজন স্ত্রী জমি লিখে নিয়ে সংসার না করে চলে যান। চতুর্থ বিয়ের জন্য জমি প্রয়োজন হওয়ায় ছেলের নামে দেওয়া জমি ফেরত চেয়েছিলেন নমিরউদ্দিন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে।
‎
‎গ্রামবাসীর একটি অংশের ধারণা, এই বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হতে পারে। তাঁদের সন্দেহের তীর হাবিবুরের বাবা নমিরউদ্দিন ও বড় বোন ডালিমা বেগমের দিকে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁরা বাহাদুরপুর গ্রামে নেই বলে জানান গ্রামবাসী।

‎এদিকে মামলার আসামি সবুজ রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে তাঁর প্রাথমিক  জবানবন্দি শেষে রিমান্ডের মাধ্যমে আরো রহস্য উন্মোচনের দাবি গ্রামবাসীর।

পুলিশ প্রধান আসামিস সবুজ রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানান ঘটনার সময় নমিরউদ্দিনকে ঘরে শিকলবন্দি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভোরে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন বলে সেইদিন বিভিন্ন মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এরপর নামাজ শেষে ফিরে এসে লাশ দেখতে পান। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কীভাবে মুক্ত হলেন বা আদৌ শিকলবন্দি ছিলেন কি না।
‎
‎এই ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা আঃ রশিদ বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাবিবুরের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম, ভাগনে সবুজ রানা ও শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎বাহাদুরপুর জাগরণী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রুমন আহমেদ ইফতি বলেন, গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৪ খুনের অন্যতম আসামি সবুজ রানা ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে নাহিদ বাবু নামের এক কিশোরকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় সবুজ রানা গ্রেপ্তার হয়ে কিশোর সংশোধানাগারে ছিল। ওই ঘটনায় সঙ্গে সবুজ রানা গ্রামের আরও কয়েক কিশোরকে জড়ানোর চেষ্টা করে। মামলাটি বর্তমানে নওগাঁ আদালতে বিচারাধীন আছে।
‎
‎এ প্রসঙ্গে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
‎
‎উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে বাহাদুরপুর গ্রামে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা, ছেলে ও মেয়েকে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করছেন স্থানীয়রা।

ভোরের আকাশ/আ.র

নিয়ামতপুরে চার খুন

শেয়ার করুন: