দিন দিন বাড়ছে খামারীর সংখ্যা
বগুড়ায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত প্রায় ৩ লাখ কোরবানীযোগ্য পশু

বগুড়ার ১২ উপজেলায় কোরবানীযোগ্য ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি গবাদীপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এবছর চাহিদা ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টি পশু। সেখানে উদ্বৃত্ত রয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৭টি পশু। ৫১ হাজার ৭৪৬ জন খামারী ও কৃষক তাদের খামার ও বাড়িতে এই পশুগুলো হৃষ্ট-পুষ্টকরণসহ প্রস্তুত করছেন। বিভিন্ন হাট-বাজারের পাশাপাশি খামার ও বাড়ি থেকেও বিক্রি হচ্ছে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ গবাদীপশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তুতকৃত ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি গবাদীপশুর মধ্যে গরু রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি, মহিষ ২ হাজার ১৫৫টি, ছাগল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৬৯টি এবং ভেড়া ৫৪ হাজার ২৯টি। মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৪টি গরুর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯০৪টি, বলদ ৪১ হাজার ৩২৮টি ও গাভী রয়েছে ৬৩ হাজার ৫৫২টি।
বগুড়ার সবুজ আলো এগ্রো’র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ সহিদ জানান, তার বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চৌমুহানী এলাকায় সবুজ আলো এগ্রো’র খামার রয়েছে। সেই খামারে এই কোরবানী ঈদের জন্য ২৫টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। ৭৫ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত মুল্যের গরু খামারে বেচা-কেনা হয়েছে। এবারও গো-খাদ্যের দাম বিবেচনায় কোরবানী পশুর আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার কাজী আশরাফুল ইসলাম জানান, সারাদেশের মতো বগুড়া জেলাতেও দিন দিন বাড়ছে খামারীর সংখ্যা। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানীর পশু প্রস্তুত করতে খামারীদের সবসময় তদারকি করা হচ্ছে। খামারীরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশি বেশি গবাদীপশু পালন করছেন। আর একারনেই জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ লাখ গবাদীপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে বাইরে থেকে পশু আমদানি না করা হলে এবছর খামারীরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যৌক্তিক মুল্যে গো-খাদ্য পাওয়া গেলে আরও উৎসাহিত হবেন খামারীরা।
ভোরের আকাশ/এনউব