শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট

পাথরঘাটায় ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু, ছেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

ইসা হাসান, পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৫, ৯:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পাথরঘাটায় ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু, ছেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক
পাথরঘাটায় ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু, ছেলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ছোট পাথরঘাটা গ্রামের সাধনা রানী (৩৫) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।  মঙ্গলবার (২৪ জুন) মধ্যরাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার স্কুলপড়ুয়া ছেলের অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক এবং তিনি একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুদিন আগে বরগুনা শহরে প্রয়োজনীয় কাজে গেলে সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন সাধনা রানী।  অসুস্থ হলে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে পাথরঘাটায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ২০ জনেরও বেশি মানুষ।  প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে।  ইতোমধ্যে বরগুনা জেলাকে ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে, আর সচেতন নাগরিকদের মতে পাথরঘাটাও এখন সেই চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সাধনা রানীর মৃত্যু যেন পাথরঘাটার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।  অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর স্বজনদের অভিযোগ—পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা প্রায় নেই বললেই চলে।  ২৭ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে এখানে রয়েছেন মাত্র একজন চিকিৎসক, যিনি মূলত একজন দন্ত চিকিৎসক (ডেন্টিস্ট)।

যদিও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, তবু চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে সেখানে রোগীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা।  ফলে অধিকাংশ রোগীকেই বরিশাল পাঠাতে হচ্ছে বা বাড়িতে থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

পাথরঘাটা পৌর শহরের ইমান আলী সড়কের বাসিন্দা মাওলানা জাকির হোসেনের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে তাকওয়াও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।  তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক না থাকায় বাড়িতেই চিকিৎসা দিতে হয়।  পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশালে রেফার করা হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু মশা মারার ফগিং করলেই চলবে না, চাই দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ। চিকিৎসক নিয়োগ, জরুরি ওয়ার্ডে সেবার মান উন্নয়ন, ওষুধ সরবরাহ এবং মশা নিধন অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।

সাধনা রানীর মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।  একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ছেলের জীবন রক্ষার যুদ্ধ—দ্বিগুণ দুঃখে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।

ভোরের আকাশ/জাআ

পাথরঘাটাডেঙ্গু

শেয়ার করুন: