জীবননগরে পাচারের সময় ৩ শতাধিক বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ী আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ও পাচারের প্রস্তুতিকালে ৩ শতাধিক বস্তা ভর্তুকির সরকারি সার জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হাসাদাহ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাসাদাহ বাজারে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, হাসাদাহ বাজারের মেসার্স তৌফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল খালেকের দোকান থেকে ভর্তুকির সরকারি সার অবৈধভাবে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
অভিযানকালে তৌফিক ট্রেডার্সের চারটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে ৩ শতাধিক বস্তা ভর্তুকির সরকারি সার জব্দ করা হয়। এ সময় সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মো. আব্দুল খালেককে আটক করে পুলিশ।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি গোডাউন থেকে ৩ শতাধিক বস্তা ভর্তুকির সরকারি সার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আগের দিনও ৪০৩ বস্তা সরকারি ডিএপি সার জব্দ
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জীবননগর বাজারের মেসার্স সান্ত্বনা ট্রেডার্স থেকে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৪০৩ বস্তা সরকারি ডিএপি সার জব্দ করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে সরকারি সার মজুতের বিষয়টি ধরা পড়লে বিপুল পরিমাণ সার জব্দ করা হয়। পরে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি।
পরপর দুই দিনে জীবননগরের দুটি পৃথক স্থানে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির সরকারি সার জব্দের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকারি সার বিতরণ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে সারগুলো কীভাবে ব্যবসায়ীদের গুদামে পৌঁছেছে এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভোরের আকাশ/ ইউএম