শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০ বছর ধরে গাছ লাগাচ্ছেন পীরগঞ্জের ভূমিহীন বাদশা মিয়া

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের মেষ্টা গ্রামের ভূমিহীন বাদশা মিয়া (৬৫)। কিশোর বয়স থেকে গাছ লাগানোর আগ্রহ। 

নিজের জায়গা-জমি না থাকায় যুবক বয়সে আশা পুরণে বেছেনেন সরকারি সড়কের দু’ধার, মসজিদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পতিত জায়গা। গত বিশ বছরে ত্রিশ হাজারের বেশি গাছ লাগিয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বড়দরগাহ মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মেস্টা গ্রামের আমতলা থেকে ভগবানপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ কি.মি. সড়কের দু’ধারে ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের সমারোহ। ফলের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন ধরনের ফল।
বাদশা মিয়া গাছ লাগিয়ে থেমে যাননি বরং নিজস্ব অর্থায়নে সার ঔষধসহ প্রতিটি গাছের করেছেন সন্তানের মতো।

রাস্তার ধারে, পতিত জমিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করেছেন। তার উদ্যোগে এলাকার পরিবেশ যেমন সুন্দর হয়েছে, তেমনি বেড়েছে জীববৈচিত্র্য। এমনকি বিয়ে কিংবা আকিকার দাওয়াতে উপহার হিসেবে গাছ নিয়ে হাজির হন।

বাদশা মিয়া বলেন, ক্ষুদার্ত অবস্থায় বেঁচে থাকা যায় কিন্তু অক্সিজেন ছাড়া এক মূহুর্তও বাঁচা সম্ভব নয়। গাছ আমাদের প্রকৃত বন্ধু। “গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, মানুষের জীবন ও প্রকৃতিকে রক্ষা করে। তাই আমি সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর অনুরোধ জানাই।” 

তিনিও আরও বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নাই| মানুষ বলে গাছগুলো বাদশা লাগাছে, এটাই আমার বড় পাওয়া।

স্থানীয় বাসিন্দা, শামীম, ইমরান, রতন জানান, গ্রীষ্মের তাপদাহে বাদশা মিয়ার লাগানো গাছের ছায়া পথচারীদের শাস্তি দেয়। পাশাপাশি ফলদ গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে অনেকে খেয়ে থাকেন।

শানেরহাট কেজে ইসলাম বালিক স্কুল ও কলেজের (ভারঃ) অধ্যক্ষ খন্দকার এখলাছুর রহমান বলেন, বাদশা মিয়া একজন প্রকৃত পরিবেশবন্ধু| তার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে গাছ লাগাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে| আমি সরকারে পক্ষ থেকে পরিবেশ পদক দেয়ার অনুরোধ করছি।

শানেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বাদশা মিয়ার মতো মানুষদের উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সবুজায়নের যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা সমাজের জন্য অনুকরণীয়।

আরও পড়ুন

আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছি: ডিএমপি কমিশনার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে জানান, আমি এই উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। সংবাদ মাধ্যম থেকে বাদশা মিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ| তার গাছ লাগানো অব্যহত রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

বৃক্ষপ্রেমী ও পরিবেশবন্ধু বাদশা মিয়ার এই গল্প প্রমাণ করে, একজন সচেতন মানুষের উদ্যোগও একটি জনপদের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। তার স্বপ্ন একদিন পুরো এলাকা সবুজে ঘেরা হবে, আর মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে আরও নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হবে।

ভোরের আকাশ/ র.ই

গাছ বিতরণবাদশা মিয়া

শেয়ার করুন: