ফতুল্লায় পরকীয়ার জেরে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় মামলার ২৪ ঘণ্টার মাথায় পুরো পরিকল্পনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পরকীয়া সম্পর্ককে ঘিরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানার চর কাশিপুর মধ্য নরসিংপুরের একটি পরিত্যক্ত জায়গার সামনে ইটসলিং রাস্তার ওপর সুমন খলিফার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমন বরিশালের আগৈলঝড়া উপজেলার আন্দারমানিক গ্রামের বাসিন্দা হলেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরে ১ ডিসেম্বর নিহতের পিতা মোঃ মন্টু খলিফা ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তে উঠে আসে যে সুমনের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে আয় করতেন। এই সূত্রে প্রায় এক মাস আগে তার পরিচয় হয় মেহেদী হাসান পলাশ ওরফে ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে।
পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। সুমন বিষয়টি জানতে পারলে দাম্পত্য কলহ ও বিরোধ ঘনীভূত হয়। পুলিশ সুপার জানান, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সোনিয়া ও ইউসুফ একপর্যায়ে সুমনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করে।
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এলাকার একটি ক্লাবে গান গাওয়ার সময় সুমনকে কৌশলে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্বনির্ধারিত সিএনজিতে তুলে তাকে চর কাশিপুরের নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে সুইচ গিয়ার দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। পরে চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করে সুমনকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অস্ত্র দুটি ডোবার ধারে ফেলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পুলিশি তথ্য মতে, এই হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতরা হলেন মেহেদী হাসান পলাশ ওরফে ইউসুফ (৪২), তার শ্যালক আব্দুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, আলমগীর হাওলাদার, নান্নু মিয়া এবং নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। তাদের তথ্য অনুযায়ী চাপাতি ও সুইচ গিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মামুন নামের একজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইয়াছিন আরাফাত, এসআই শামীম হোসেন, এসআই মোঃ রফিক বিপিএম ও এসআই মোঃ জহিরুল ইসলামের সমন্বিত টিম প্রযুক্তিগত সহায়তা, মোবাইল কল রেকর্ড ও আসামিদের স্বীকারোক্তি মিলিয়ে ঘটনার পূর্ণ চিত্র দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পলাতক আসামিকেও দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন তিনি। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছেন, সার্বিক তদন্ত শেষ করে অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ