কুষ্টিয়ায় গত এক মাসে হামের প্রকোপে ৮ শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ল্ড। যেখানে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও এই রোগগুলোর পাশাপাশি ওয়ার্ডটিতে দেয়া হচ্ছে হামের চিকিৎসা।
এখন অব্দি জেলার দুটি সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের লক্ষণ ও প্রাদুর্ভাবের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৩৯৯ জনকে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮৭ জন। এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১২ জন। পহেলা মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে ৮ শিশু মৃত্যুবরণ করে।
গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখ সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুরের বাসিন্দা হান্নানের মেয়ে হাফসার। জ্বর, ঠান্ডা ও শরীরের লালচে দাগ নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় হাফসা। পরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় থাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ মার্চে তার মৃত্যু হয়। এটিই হামের লক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়ার প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
এরপরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৬ মার্চ সদর উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়া গ্রামের আলামিনের ৮মাস বয়সী ছেলে আফরান হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয়। পরে ২৯ মার্চ রবিবার একই দিন পৃথক দুটি স্থানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ জনের মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বর, ঠান্ডা ও গায়ে লালচে দাগ নিয়ে ভর্তি হওয়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার মো: সোহাগের ৬মাস বয়সী ছেলে রায়ানের মৃত্যু হয়। একই দিন কুষ্টিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার একই এলাকার বাসিন্দা ইয়ামিনের ছেলে ৮মাস বয়সী রাফিন মৃত্যুবরণ করে। সেও শরীরে জ্বর, ঠান্ডা ও লালচে দাগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
এরপর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া মমিনুর রহমানের শিশু ছেলে ৫ মাস বয়সী আইজা চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১শে মার্চ মৃত্যুবরণ করে। তারা কুষ্টিয়া পৌরসভার রেইন উইক জগেশ্বর এলাকার বাসিন্দা।
তবে এপ্রিল মাসে প্রথম দিনেই কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ভাড়োরা এলাকার জাহাঙ্গীরের ১৩ মাস বয়সী ছেলে সিয়াম কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়।২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দৌলতপুর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের চঞ্চল আলীর ছেলে ইব্রাহিম ৩ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করে। গত ৪ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বশেষ মৃত্যু ঘটনা ঘটে শিশুর নাম আব্দুল লতিফ। সে জেলার কুমারখালী উপজেলার মধুপুর এলাকার সুমন হোসেনের ছেলে।
হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আমরা শুরু থেকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন ছিলাম। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে রোগীর চাপ খুব একটা বেশি না হলেও জেলার দুটি সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ হয়েছে বেশি। সেখানে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা। তবে হামের টিকা প্রয়োগ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি জানান।
এ সময় সিভিল সার্জন বলেন, কুষ্টিয়া জেলা হাম এর প্রাদুর্ভাবের জন্য লাল এলাকাভুক্ত না হলেও আগামী ১৯ অথবা ২০ এপ্রিলে টিকা প্রদানের কথা রয়েছে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ