১৭ বছর পর জনবান্ধব বাজেট পেল দেশবাসী -আফরোজা খানম রিতা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পর এবার জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকার।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
বিমান মন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে।
তিনি বলেন, দেশের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাতে সকল স্তরের শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সরকার এমন উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করেছে। যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশে নারীদের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য করতে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার প্রস্তাব বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে বিমান মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, নতুন বাজেটে নারী শিক্ষা সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এবারের বাজেট জনগণের কল্যাণ ও দেশের টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে যে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে, তা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি কেবল প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে, উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোর বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। একই সাথে, নারী শিক্ষার এই অগ্রযাত্রাকে সফল করতে শিক্ষকদের আরও যত্নশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করেন।
পুরস্কার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ ও আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এছাড়া ১০ জনকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বাংলাদেশের সেসিপ (SESIP)-এর অন্তর্গত ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)’-এর সহযোগিতায় এই মেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকপরিশেষে ভারতে অনেক সময় র্তা ফকির মো.জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে উপজেলার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি করা বিভিন্ন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রজেক্ট, নতুন স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রদর্শন করেন।
অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত প্রজেক্টগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের মেধার প্রশংসা করেন। পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা উদ্ভাবনী প্রজেক্ট ও আইডিয়া উপস্থাপনকারী বিজয়ী শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন আফরোজা খানম রিতা। পরিশেষে তিনি বর্তমান যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে তরুণ শিক্ষার্থীদের এ ধরনের উদ্ভাবনী কাজে আরও বেশি বেশী সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
ভোরের আকাশ/এনএস