রংপুরে তিন দিনব্যাপী ইজতেমার প্রথম দিনেই দুই মুসল্লির মৃত্যু

উত্তরের বিভাগীয় নগরী রংপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ইজতেমা। রংপুর মহানগরীর ৪নং ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল এলাকায় শুরু হয়েছে এবারের ইজতেমা। ইজতেমা ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন নিয়েছেন আয়োজকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে ইজতেমার প্রথম দিনে দুপুর পর্যন্ত দুইজন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইজতেমার মাঠের ৬নং হালকার জিম্মাদার ইঞ্জিনিয়ার আবুল হোসেন। মারা যাওয়া মুসল্লিরা হলেন, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার সাঈদুর রহমান। অপরজন হলেন টাঙ্গাইল জেলার তারা মিয়া। টাঙ্গাইল জেলার মুসল্লি তারা মিয়া ৪০ দিনের চিল্লায় রংপুর এসে ইজতেমায় অংশ নিয়েছিলেন। মরহুমের জানাজা ইজতেমা ময়দানে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার কার্যক্রম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মহান আল্লাহ্ ও নবী-রাসুলের হুকুম-আহকাম মেনে চলার মধ্যেই ইহকাল ও পরকালে সুখ-শান্তি রয়েছে বলে বয়ানে উল্লেখ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইজতেমা সফল করতে আমাশু কুকরুল এলাকার মাঠজুড়ে শামিয়ানা টাঙানো, পানির লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ, সাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বিশাল আয়তনের এ মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শামিয়ানার নিচে অবস্থান নিতে পারবেন। রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের ঢল নেমেছে এই মাঠে। শুক্রবার এখানে লাখের অধিক মুসল্লি একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।
কমিটিরা জানায়, এবারের ইজতেমায় রংপুর বিভাগের আট জেলা পঞ্চগড, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও রংপুর থেকে তাবলিগ জামাতের সাথীরা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত তাবলিগের জামাতের বিদেশি মেহমানরা ময়দানে উপস্থিত
হয়েছেন।
আয়োজক কমিটির সদস্য খালেকুজ্জামান রাজা বলেন, প্রায় ২০০ বিদেশি মেহমান এই ইজতেমায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এবার জেলা ইজতেমার পরিবর্তে বিভাগীয় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে বিভাগের আট জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। মাঠের ধারণক্ষমতা পাঁচ লাখ হলেও এবার ১০ লাখ মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রংপুর জেলাসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ইজতেমা ময়দানে সমবেত হতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে আম বয়ানের পর মাশোয়ারার ভিত্তিতে আগত আলেমগণ বয়ানের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করবেন। এবার রংপুর আট জেলার কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ নিচ্ছেন ইজতেমায় এবং বিদেশি মেহমানরাও এসেছেন। তাবলিগ জামাতসহ সাধারণ মানুষের সহযোগিতার পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক বিশাল এই মাঠ প্রস্তুত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তদারকি করছেন।
এদিকে ইজতেমার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সাদা পোশাকে পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। দেয়া হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে আয়োজক কমিটি, জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নির্বিঘ্নে ইজতেমার কাজ সম্পন্ন ও ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনায় আয়োজক কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করবে।
এদিকে আগামী শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার মধ্যে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শেষ হবে। মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য এখান থেকে চিল্লার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার মুসল্লি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ