চকরিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন

চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারির বাইরে থেকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছিল। অবশেষে সেই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান।
বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, পণ্যের গায়ে লেবেল ও মূল্য উল্লেখ না থাকা, অনুমোদনবিহীন পণ্য মজুদ ও বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণ এবং নকল ইলেকট্রনিকস ক্যাবল বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধ প্রকাশ্যে সংঘটিত হচ্ছিল। অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, চকরিয়া ভূমি সংলগ্ন নবাব বাড়ি রেস্টুরেন্টে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দায়ে ১০ হাজার টাকা, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীট সংলগ্ন বাজার ব্যাগ সুপারশপে মূল্য তালিকা ও লেবেলবিহীন পণ্য বিক্রির অপরাধে ৫ হাজার টাকা, ইয়াম্মী ফুড বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও অনুমোদনহীন পণ্য রাখার দায়ে ১০ হাজার টাকা ও পৌরশহরের বাবুল শপিংস্থ জনি ইলেকট্রনিকসকে নকল ও নিম্নমানের ইলেকট্রনিকস ক্যাবল বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত না হলে ব্যবসায়ীদের অনিয়ম বন্ধ হবে না।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলার সহকারী পরিচালক মোঃ হাসান আল মারুফ-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম, চকরিয়া উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, পৌরসভা স্যানিটারি কর্মকর্তা এবং নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, চকরিয়া পৌরশহরের বিভিন্ন বাজারে এমন অনিয়ম নতুন নয়। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/এসএইচ