শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গাইবান্ধায় পোকা দমনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আলোক ফাঁদ

রিফাতুন্নবী রিফাত,গাইবান্ধা

প্রকাশ : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

‎কৃষকের গায়ে গতরে ফলানো মাঠের ফসল পুরোটা তো ঘরে আসেই না, কোনো কোনো সময় কৃষকদের জন্য একটি আবাদ হয়ে উঠে ব্যর্থ প্রকল্পের মতো। আর এটার কারণ প্রায় সকলেরই জানা। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, অসময়ে বন্যা, শিলা বৃষ্টিসহ নানা কারণে ফসলের চরম ক্ষতি হয়। সেইসবের সঙ্গে জমিতে পোকার উপদ্রবেও উৎপাদিত ফসলের বেশ ক্ষতি সাধিত হয়ে থাকে। আপাতত, পোকার উপদ্রব থেকে ফসলকে রক্ষার একটি ভালো ও কার্যকর কৌশল চোখে পড়েছে গাইবান্ধায়। যার নাম 'আলোক ফাঁদ'।

‎গাইবান্ধায় চলতি আমন মৌসুমে ধানে উপকারি ও অপকারি পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই আলোক ফাঁদ পদ্ধতি। মাঠের পাশে স্থাপন করা এই ফাঁদে বাল্বের আলোতে আকৃষ্ট হয়ে পোকারা এসে ফাঁদে পড়ে যায়। এতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে।

‎জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমন ধানের জমিতে কৃষকদের সহায়তায় এবং কৃষি অফিসের তত্ত্বাবধানে স্থাপন করা হয়েছে আলোক ফাঁদ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন।

‎গাইবান্ধা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১৩০ হেক্টর,এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ২৭৮ হেক্টর। এ মৌসুমে রোপণ করা ধানের জাতের মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড, তেজগোল্ড, এসিআই ১/২, ব্রি-হাইব্রিড,গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা ফাইভ, রনজিৎ, ব্রিধান ৩৪, ৪৯, ৫১, ৫২, ৭৫, ৮৭, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০৩, ১১০ বিআর ১১ বিনা ২০,২২।

‎ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের পূর্ব ছালুয়া এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল ও ‎এন্তাজ আলী বলেন, 'আগে আমরা ক্ষতিকর পোকা বুঝতাম না, এখন সহজে শনাক্ত করতে পারছি। এতে কীটনাশকের ব্যবহারও কমেছে। আমাদের এলাকায় এখন আলোক ফাঁদ খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।'

‎সদর উপজেলার ঝিনাশ্বর এলাকার কৃষক মঞ্জু মিয়া বলেন, কৃষি অফিসারের সহায়তায় ফাঁদ বানিয়ে পোকা দমনে সফল হয়েছি। এখন কম পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করেই ভালো ফল পাচ্ছি।

‎ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ সৈয়দ সুমন বলেন,' 'অত্র ফুলছড়ি উপজেলার ২১ টি ব্লকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার করে আলোক ফাঁদ স্হাপন করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিকর পোকা চিহ্নিত করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এটি পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর পদ্ধতি।'

‎এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রোস্তম আলী বলেন, আলোক ফাঁদ ফসলের ক্ষতিকর পোকা মাকড় সনাক্তকরণ, তাদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে দমনের একটি অত্যন্ত কার্যকর ও জনপ্রিয় যান্ত্রিক পদ্ধতি। সাধারণত সন্ধ্যার ২-৩ ঘন্টা  আলোক ফাঁদ চালু রাখা হয়। ফসলের খেতের পাশে ১০০ মিটার দুরে যেখানে পোকার আক্রমণ বেশি, এমন স্থানে এটি স্থাপন করতে হয়।

আরও পড়ুন

কর্মকর্তা সংকটে রায়গঞ্জ পৌরসভার সেবা ব্যাহত

‎একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব বা হারিকেন/হ্যাজাক বাতির নিচে একটি গামলা বা পাত্র রাখতে হবে। গামলায় পানি ভর্তি করে তার সাথে ডিটারজেন্ট পাউডার, সাবানের গুঁড়া বা সামান্য কেরোসিন মিশিয়ে দিতে হবে। বাতিটি ফসলের উপরিভাগ থেকে প্রায় ১-১.৫ ফুট উঁচুতে ঝুলাতে হবে। বাতির আলোতে আকৃষ্ট হয়ে পোকাগুলো পাত্রের পানিতে পড়ে এবং সাবান বা কেরোসিনের কারণে মারা যায়।

‎তিনি আরো বলেন, মাজরা পোকা,পাতা মোড়ানো পোকা,বাদামি গাছ ফড়িং,কাটুই পোকা ও সবজির পোকা আকৃষ্ট হয়। এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। আলোক ফাঁদে পোকার ধরন ও সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে দমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে । নিয়মিত আলোক ফাঁদ ব্যবহারে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ৬০-৭০% পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: