সরকার পরিবর্তনের এক বছর, কাটেনি বাণিজ্য সংকট

সরকার পরিবর্তনে গেল এক বছরেও ভারতের সাথে বানিজ্য সম্পর্ক্য আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।এতে একের পর এক প্রতিবন্ধকতায় বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে কমে আসছে আমদানিও রফতানি পরিমাণ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি,রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বানিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি তৈরী হবে।তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন সরকার চাইলে তারা বানিজ্য বৈঠকে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন।
বাণিজ্যক সংশিষ্টরা জানান, ৫ আগস্টের আগে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় পণ্য ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক আমদানি এবং বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হতো ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক।তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়।এরপর রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্তিরতা তৈরী হয়।পরবর্তীতেতে এ অস্তিরতা গড়ায় বানিজ্যে।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ৩ বার নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার।গত ৮ এপ্রিল ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সড়ক পথে বন্ধ হয় ভারতের বিমান বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় কোন দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি। পরবর্তীতে গত ১৭ মে একটি প্রজ্ঞাপনে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস শিল্পের তৈরী পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক, কাটের তৈরী পণ্য এবং ফল ও ফল জাতীয় পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত।
১৫ এপ্রিল দেশিয় শিল্প সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ভারত থেকে সুতা, নিউজ প্রিন্ট, সিকারেট পেপার, ডুপ্লেক্স বোর্ড, ক্রাফট পেপার, আলু, গুঁড়া দুধ, টোব্যাকো, রেডিও-টিভি পার্টস, সাইকেল ও মোটর পার্টস, ফরমিকা শিট, সিরামিকওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, স্টেইনলেস স্টিলওয়্যার, মার্বেল স্ল্যাব ও টাইলস এবং মিক্সড ফেব্রিক্সের আমদানি বন্ধ আছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অবস্থার উন্নতি না হলে বছর শেষে বড় ধরনের বানিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতি বাড়বে।গত অর্থ বছরে তার আগের বছরের চেয়ে বেনাপোল বন্দরে আমদানি কমেছে ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৩০ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ৭৫ হাজার ২৩২ মেট্রিক টন। এছাড়া রেলপথে বানিজ্য ঘাটতি হয়েছে ২৯ হাজার মেট্রিক টন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, সরকার পরিবর্তনের ১৫ মাসেও কাটেনি বাণিজ্য সংকট। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৪ মাসের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ মাসে আমদানি কমেছে ৫৫,০৭২ মেট্রিক টন এবং রফতানি কমেছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪১৮ মেট্রিক টন।
সরকার পরিবর্তন স্বাভাবিক।তবে আমরা আশা করবো রাজনৈতিক পেক্ষাপট পরিবর্তনে ভারত সরকার তাদের বানিজ্য নীতির জায়গায় যেন অটুট থাকে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের কার্যকারী সদস্য আমিনুল হক বলেন, ভারত সরকারের একের পর এক নিষেধাজ্ঞায় বানিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।বাংলাদেশ সরকারও দিয়েছে কয়েকটি আমদানি পণ্যের নিষেধাজ্ঞা।এতে জরুরি অনেক পণ্যের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কমেছে।
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, স্থলপথে ব্যবসায়ীরা আরো পণ্য আমদানি-রফতানির ইচ্ছে থাকলেও বন্দরগুলোর অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে বাণিজ্য প্রসার ঘটছে না।ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল -ভুটান (বিবিআইএন) স্থলপথে চার দেশের বানিজ্য চুক্তি আলোর মুখ দেখছে না।যোগাযোগব্যবস্থা সহজ আর চাহিদা আছে এমন বন্দরগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়নের প্রতি অন্তবর্তীকালিন সরকারকে নজর দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
এদিকে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান জানান, সবশেষ ২৩ নভেম্বর রেলপথে এসিআই মটরস নামে আমদানিকারক ভারত থেকে ১০০টি ট্রাকটর আমদানি করেছে।তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ঢাকা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল স্থল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, গত ২৩ নভেম্বর বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ২৪৩ ট্রাক পণ্য এবং বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে ৪৫ ট্রাক।নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে বাণিজ্য কমেছে। তবে যে সব পণ্য আমদানি হচ্ছে তা দ্রুত খালসে সরযোগিতা করা হচ্ছে।সীমান্তে বাণিজ্য বৈঠক বন্ধের কারণে অনেক সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হয়ে থাকে।তবে দুই দেশের সরকার চাইলে আবারো বানিজ্য বৈঠকের আয়াজন হতে পারে।
ভোরের আকাশ/জাআ