ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজ্ব যাত্রীর লাগেজ নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হজ্ব যাত্রীর একটি লাগেজকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০/২৫ জনের মতো আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক ঘন্টাব্যাপী উপজেলা শহরের কদমতলী মোড় এলাকায় শাহপুর ও আড়াইবাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা পৌরসভার শাহপুর এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম (৬৫) কয়েক মাস আগে পবিত্র ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরব যান। সম্প্রতি দেশে ফেরার পরও তার লাগেজ ও মালামাল হাতে না পাওয়ায় বিষয়টি জানতে ছেলে মো. ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে নতুন বাজারে অবস্থিত মোয়াল্লেম হাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের অফিসে যান।
অফিসে গিয়ে মরিয়ম বেগম তার লাগেজের বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াল্লেমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মালামাল এখনও কার্গোতে রয়েছে এবং দেশে পৌঁছানোর পর তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
এ সময় মরিয়ম বেগমের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে মোয়াল্লেমের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় ফয়সালকে মারধর করে মোয়াল্লেমের লোকজন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নতুন বাজারস্থ দি কসবা কো-অপারেটিভ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দুই পক্ষের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহপুর ও আড়াইবাড়ী এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে দেশীয় লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এরই জের ধরে শনিবার (১৩ জুন) সকালে শাহপুর ও আড়াইবাড়ী এলাকার লোকজন আবারো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েকঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এমনকি দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ সময় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে।
এছাড়া আঞ্চলিক সড়কে কয়েকঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মারামারির দৃশ্য প্রচার করতে থাকেন। দুই পক্ষের শতশত মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে যুক্ত হতে থাকেন; ফলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে চলে যায়। এমনকি ভিডিওতে পুলিশকে অসহায় অবস্থায় ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
কসবা থানার ওসি নাজনিন সুলতানা ভোরের আকাশকে জানান, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক বেশি বেগ পেতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই