সারিয়াকান্দির যমুনা-বাঙালি-সুখদহে প্রতিমা বিসর্জন

ঢাকের বাদ্য, ভক্তদের উচ্ছ্বাস আর বিদায়ের বিষাদমাখা আবহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার যমুনা নদী কালিতলা ঘাট, বাঙালি ও সুখদহ নদীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায় নেন দেবী দুর্গা।
সারিয়াকান্দির ২৮টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আনা আরও ১২টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে যমুনা নদীতে। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে নদীতীর ও আশপাশের এলাকায় এক থেকে দেড় হাজার ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দের আবহের সঙ্গে দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা ছুঁয়ে যায় ভক্তদের মন।
প্রথা অনুযায়ী, সকালে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা। পরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বের করে উপজেলার কালিতলা ঘাটে বিসর্জনের জন্য নেওয়া হয়। এ সময় ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও ভক্তদের নানা আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনযাত্রা।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। নদীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পৃথক দল নৌকাযোগে টহল দেয়। পাশাপাশি সড়কে যানজট নিরসন ও প্রতিমাবাহী যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবকেরা।
সংশ্লিষ্টদের তৎপরতায় বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। নদীপথে প্রতিমা বিসর্জনের সময় যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সারিয়াকান্দি উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাত চন্দ্র সাহা জানান, এবারের দুর্গোৎসবে বাংলাদেশ সরকারের নেওনা নানামুখী পদক্ষেপ ও বাড়তি অনুদানে ভক্তরা উচ্ছ্বসিত ছিল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টায় নির্বিঘ্নে শেষ হলো এবারের দুর্গাপূজা।
সারিয়াকান্দি থানা অফিসার ইনচার্জ আ ফ ম আছাদুজ্জামান জানান, সারিয়াকান্দির ২৮ টি সহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২টি প্রতিমা যমুনায় বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সড়কপথে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করেছে। এছাড়াও নদীতে নৌকাযোগে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টহল অব্যাহত ছিল। সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যান। আগামী শরতে আবারও তিনি ফিরে আসবেন মর্ত্যে। তবে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য কেবল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের ভেতরের হিংসা, বিদ্বেষ ও অসুরিক প্রবৃত্তি বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করাও এর অন্যতম শিক্ষা।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটলেও দুর্গোৎসবের আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনের স্মৃতি নিয়ে ঘরে ফিরেছেন ভক্তরা। বিদায়ের সুরে শেষ হয়েছে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব; অপেক্ষা শুরু হয়েছে আগামী শরতে দেবী দুর্গার পুনরাগমনের।
ভোরের আকাশ/ইউএম