সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যু

সিরাজগঞ্জে ডিবি পুলিশের হেফাজতে শাহাদত হোসেন (৪৫) নামে হত্যা মামলার এক সন্দেহভাজন আসামির মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শাহাদত হোসেন আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহাদত হোসেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া হরিপুর গ্রামের মৃত খলিল শেখের ছেলে। নিহতের মরদেহ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্বজনরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের কালিয়া হরিপুর গ্রাম থেকে রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় শাহাদত হোসেনকে। পরে চাঁদপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় সাইদুল হোসেনকে। দুজনকে আটকের পর তাদের সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে রাখা হয়। একপর্যায়ে শাহাদত হোসেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শুক্রবার বিকেলে ৩টা ৪০ মিনিটে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। ডিবি পুলিশের নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
আটক সাইদুল হোসেনের ভাই শাহ আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ডিবি পুলিশ বাড়িতে এসে আমার ভাই সাইদুল হোসেন ও শাহাদত হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায়। মামলার বাদি কে তা আমরা জানি না। শুধু জানতে পারি তারা আসামি। ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে, এই পর্যন্ত আমরা জানি। সারা দিন ডিবি কার্যালয়ের সামনে ছিলাম। সন্ধ্যায় জানতে পারি শাহাদত হোসেন মারা গেছেন।
সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের (পুরুষ) সিনিয়র নার্স মিমি খানম বলেন, শাহাদত হোসেন ফিজিক্যাল অ্যাসল্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে। ৩টা ৪০ মিনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি রোগীকে বাঁচানোর জন্য। ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। যারা রোগী নিয়ে এসেছিলেন তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। তারা ৪-৫ জন ছিলেন। রোগী মারা যাওয়ার পর তারা ফাইলটা নিয়ে চলে যায়। বলেছে, ডাক্তারের সাথে কথা বলে আসছি। কিন্তু এর পরে তার আর আসে নাই।
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি মার্ডার কেসের আসামি হিসেবে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছিল। মার্ডারের সময় ব্যবহৃত অটোরিকশার সন্ধান চলছিল। ডিবি পুলিশ শাহাদতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মারা যায়। সে আগে থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলো বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ভোরের আকাশ/মো.আ.