বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে নাফ নদীর মোহনা থেকে তিন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ)। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক জেলেরা হলেন—টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া এলাকার লেডু মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (৪০), একই এলাকার মমতাজ মিয়ার ছেলে মোহম্মদ ইসমাইল (৪৫) এবং মোহাম্মদ আইয়ুব আলীর ছেলে হারুন (৩৭)।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া নৌঘাট জেলে কমিটির সভাপতি আব্দুল গণি বলেন, শনিবার সকালে তিন জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। এর আগেও ওই এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।”
তিনি বলেন, নাফ নদী ও সাগরে মাছ শিকার এখন আমাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সবসময় জেলেদের মধ্যে আরাকান আর্মির আতঙ্ক কাজ করে। সুযোগ পেলেই তারা স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, জালিয়াপাড়া এলাকার তিন জেলেকে আরাকান আর্মি নাফ নদীর মোহনা থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তাদের ফিরে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে আরাকান আর্মির সদস্যরা জেলেদের ধাওয়া করেছে। এ সময় কয়েকজন জেলে নৌকা থেকে লাফ দিয়ে সাঁতরে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেন। দুজন নৌকাসহ পালিয়ে আসতে পারলেও তিনজনকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। জেলেদের ফেরত আনার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে সংঘাতের পর থেকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে তাঁরা নিয়মিত আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন। বিশেষ করে আরাকান আর্মির সদস্যদের হাতে জেলেদের আটক ও ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকার জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভোরের আকাশ/এনউব