কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে ভোগান্তি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও বাজারে অসংখ্য ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়ক এখন খানাখন্দে ভরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রাস্তায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও এক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে শতাধিক গর্ত। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে যান চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
উপজেলার পৃথিমপাশা, হাজীপুর, শরিফপুর, কর্মধা, টিলাগাঁও, রাউৎগাঁও, ভাটেরা, বরমচাল, কাদিপুর, ব্রাহ্মণবাজার, জয়চণ্ডী, কুলাউড়া সদর ও ভুকশিমইলসহ ১৩টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল।
ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন।
অটোরিকশা চালক আকবর মিয়া, সুলতান আহমদ, সামিম মিয়া ও আসকর উদ্দিন জানান, রাস্তায় গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ে। অনেক সময় যাত্রী নামিয়ে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়।
এবিষয়ে কৃষক উস্তার মিয়া, বদর উদ্দিন, রশিদ আহমদ ও আব্দুল খালিক বলেন, ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে ভয় লাগে। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে অনেক কষ্ট ও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়।
এবিষয়ে কলেজ শিক্ষার্থী রোমেনা আক্তার চৌধুরী বলেন, খারাপ রাস্তার কারণে সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছানো যায় না। বিশেষ করে সদপাশা থেকে মুরইছড়া সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ, দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতে অনেক স্থানে সড়কের অংশ সতী নদীতে ধসে পড়ছে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের চলাচলও হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ভোটের সময় সবাই আসে, কিন্তু কাজের সময় কেউ এগিয়ে আসে না।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নুরুল ইসলাম নাহিদ ও রাজু আহমেদ বলেন, রাজনগর বাজার থেকে ছৈদলবাজার পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদ রানা আব্বাছ বলেন, বন্যা, নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টির কারণে অনেক সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বরাদ্দ বাড়িয়ে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা জরুরি।
এবিষয়ে উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়ায় প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে আনুমানিক ১১৪২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, যার প্রায় ৭৪২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রিতম সিকদার বলেন, বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে সব সড়ক একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে ৬টি সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
ভোরের আকাশ/ র.ই