শ্রীপুরে যুবককে মারধর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ । পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩ টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। একই দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
নিহত আজিজুল ইসলাম (৩৮) উপজেলা বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ি গ্রামের মো. হানিফ মিয়ার ছেলে। এঘটনায় একই গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে শামীম (৩৪), ইছব আলীর ছেলে মো. ফকির (৪২), জামাল উদ্দিন (৫৬), জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. হৃদয় (২৮) ও মো. শাহিন (৩৫)সহ অজ্ঞাত নামা ৪/৫জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ করে নিহতের ভাই তাইজুল ইসলাম। এঘটনায় প্রধান আসামী শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের ছোট ভাই তাইজুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে নিহত আজিজুল ও তার ছোট ভাই ফাইজুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মীমাংসাও হয়ে যায়। এই ঘটনার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত শামীম, জামাল উদ্দিন, হৃদয়, শাহীন ও তাদের সহযোগীরা পূর্ব শত্রুতার সুযোগ নিয়ে আজিজুলের ওপর লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। আজিজুলের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আত্মীয় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, তাদের সাথে অভিযুক্তদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময় তারা হুমকি দিচ্ছিল। আমাদের পারিবারিক ঝগড়ার পর আমার ভাই আজিজুর রাস্তা পাশে দাঁড়ানো ছিল। এসময় অভিযুক্তরা এসে আমাদেরকে গালাগাল ও ধমক দিতে থাকে। আমরা নাকি এই এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছি। এই বলে ভাইকে পেটায় তারা। মারধরে বাধা দিতে গেলে আমার মা, ছোট বোন এবং ছোট ভাইকেও মারধর করা হয়। এ সুযোগ তাদের বসতবাড়িতেও ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলা চালায় অভিযুক্তরা।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্চয় সাহা জানান, অভিযোগ পেয়ে রাতে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় আদালতে হত্যার ধারা সংযোজনে আবেদন করা হবে। এর মধ্যে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন দাফনের অনুমতি দেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/ইউএম