চার বছরে পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বিএডিসি

কৃষকদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে এবং আমদানি নির্ভরতা সম্পূর্ণ কমিয়ে আনতে দেশে প্রথমবারের মতো পাটের বীজ উৎপাদনে বিশেষ ও সময়ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই বিশেষ পরিকল্পনার আওতায় পরবর্তী চার বছরের মধ্যে বাংলাদেশ পাট বীজ উৎপাদনে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে প্রতি উৎপাদন মৌসুমে দেশে প্রায় ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ মেট্রিক টন পাট বীজের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে বাংলাদেশে সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মাধ্যমে প্রতি মৌসুমে প্রায় ২০০০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনপূর্বক সরবরাহ করা হয়। বাকি বীজ ভারত থেকে আমদানি করে কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা হতো, যাতে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হতো।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের অভ্যন্তরেই পাট বীজের চাহিদা পূরণে বিএডিসির মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাট বীজ উৎপাদন ও লক্ষ্যমাত্রার বিস্তারিত পরিকল্পনা
চলতি মৌসুমের উৎপাদন কার্যক্রম (২০২৬-২৭): বর্তমানে শুরু হওয়া উৎপাদন মৌসুমে ২২১০.০০ মেট্রিক টন পাট বীজ উৎপাদনের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে চুক্তিবদ্ধ চাষীদের মাধ্যমে ২০৯৩.৩৫ মেট্রিক টন, দিনাজপুর জেলার নশীপুর খামারে ৫২.৬৫ মেট্রিক টন এবং মেহেরপুরের চিৎলা খামারের মাধ্যমে ৩৩.৮০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদিত হচ্ছে।
বিশেষায়িত বীজ খামারের অবদান: দিনাজপুর জেলার নশীপুর এবং মেহেরপুর জেলার চিৎলায় বিএডিসির দুটি বিশেষায়িত ভিত্তি পাট বীজ খামার রয়েছে। এছাড়া ডাল ও তেলবীজ খামারসহ অন্যান্য বিভাগের আওতায় আরও ৩০.২০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের কাজ চলছে।
পর্যায়ক্রমিক বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৭-২৮ উৎপাদন বর্ষে ৩৩০০.০০ মেট্রিক টন এবং ২০২৮-২৯ বর্ষে ৪৫১০.০০ মেট্রিক টন পাট বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণতা (২০২৯-৩০): ২০২৯-৩০ উৎপাদন বর্ষ হতে স্থায়ীভাবে প্রতিবছর ৫০০০.০০ মেট্রিক টন পাট বীজ অভ্যন্তরীণভাবেই উৎপাদনের মাইলফলক অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন জোন ও উন্নয়ন প্রকল্প: উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে দেশের ১০টি জেলায় ‘পাট বীজ চুক্তিবদ্ধ চাষী জোন’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ‘মানসম্মত পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প জানুয়ারি ২০২৭ হতে ডিসেম্বর ২০২৯ মেয়াদে অনুমোদনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তদারকি ও বাস্তবায়ন
বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণ কমিয়ে আনা বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিএডিসির এই সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা যাতে মানসম্মতভাবে ও যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়, সে লক্ষ্যে সংস্থাসমূহের সমন্বয় ও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিএডিসির চেয়ারম্যান মো: আজিজুল ইসলাম বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন এবং বিএডিসি বীজ খামারে গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদনে নিয়মিত নির্দেশনা প্রদান নিশ্চিত করছেন।
আমদানি নির্ভরতা দূর করে দেশের অভ্যন্তরেই আন্তর্জাতিক মানের পাট বীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। বিএডিসির এই সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের পাট খাত নতুন এক সমৃদ্ধির যুগে পদার্পণ করবে।
ভোরের আকাশ/জেআ