পাথরঘাটায় ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বরগুনার পাথরঘাটায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জ্বালানি সরকারি নির্ধারিত মূল্যে জেলেদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপস পালের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানে মেসার্স গাজী স্টোরে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রশাসনের দাবি, মাছধরা ট্রলারগুলোর জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানি দীর্ঘদিন ধরে গুদামে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়। এতে বহু জেলে সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
অভিযানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত রাখার দায়ে মেসার্স গাজী স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল্লাহ গাজীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ৩৮ হাজার লিটার ডিজেল সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ফিশিং ট্রলার মালিকদের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ট্রলার চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তালিকা অনুযায়ী রাতেই ডিজেল বিতরণ করা হবে। ফলে জেলেরা পুনরায় সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন।
স্থানীয় জেলেরা জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর প্রশাসনের কার্যকর অভিযানে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত নজরদারি থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কৃত্রিম সংকট আর সৃষ্টি হবে না।
পাথরঘাটা ইউএনও তাপস পাল বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, মজুতদারি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ভোরের আকাশ/আ.র