তারেক রহমানের নির্দেশে ভোলাকে সাজাতে চাই: আন্দালিব রহমান পার্থ

সবাইকে নিয়ে নতুন ভোলা গড়ার অঙ্গিকার করেছেন বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি আজ ভোলায় নির্বাচনি প্রচার কালে এ কথা বলেন।
বিএনপি সমর্থিত ভোলা ১ আসনের বিজেপির সংসদ সদস্য প্রার্থী পার্থ বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সকলকে সাথে নিয়ে চাঁদাবাজীমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, লুটপাট মুক্ত একটি ভোলা গড়তে চান।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের উদ্দেশ্য করে পার্থ বলেন, যদি তাদের দলে তার চেয়ে যোগ্য নেতা থাকে তাহলে তিনি নিজেই সেই নেতাকে ভোট দেবেন।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ আরো বলেন, গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে রাজনীতিতে শান্তি ও গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। সমাজে গ্রহণযোগ্য ও সৎ মানুষদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তার জীবন যখন অনিশ্চয়তায় ভরপুর ছিল, তখন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। ২০০৮ সালে বিএনপির আস্থায় ভোলার দায়িত্ব পান এবং বিএনপি ও বিজেপির নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সংসদে যাওয়ার সুযোগ পান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পার্থ বলেন, সে সময় বিরোধী দলে থেকেও তিনি সংসদে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বর্তমানে ভোলার রাজনীতিতে সহিংসতা পরিহার করে ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানের আস্থায় ভোলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ্য করে পার্থ বলেন, ভোলায় আর কোনো মারামারি ও হানাহানি চলবে না। ভোলার মাটি হবে ভোলাবাসীর ঘাঁটি।
আন্দালিব রহমান আরো বলেন, আগামীর ভোলা হবে সবার। যেখানে দলমত নির্বিশেষে নতুন করে ভোলাকে গড়ে তুলবো।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার থেকে ভালো কোন প্রার্থী পেলে আমি গিয়ে তাকে আমার ভোট দিয়ে আসবো।
আর আপনার যদি মনে করে ভোলার উন্নয়নে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ যোগ্যপ্রার্থী তাহলে আগামী নির্বাচনে সবাই গরুর গাড়ী মার্কায় ভোট দিবেন।
তিনি আরো বলেন, নমিনেশন আগে বিএনপির সভাপতি গোলাব নবী আলমগীর চাচাকে বিএনপি থেকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিলো। তিনি গত ১৭ বছর অনেক ত্যাগ স্কীকার করে কাজ করে গেছেন। বিএনপির অনেক ত্যাগ আছে ফ্যাসিস্ট আমলের সময়।

আমাদের সবার দায়িত্ব সবাইকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করার। কোন ভাবেই বিবেদ থাকা যাবেনা। বিএনপি -বিজেপি ভাই ভাই। ঐক্য ছাড়া উপায় নাই। আজ থেকে এই ভোলার মুরব্বি গোলাম নবী আলমগীর চাচা। আমি আসার আগেও তার সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করে আসছি।তাকে সম্মান দিলে সেই সম্মান কোনদিন ছোট হয়না। আমাদের সামনে সবার একটাই কাজ ভেদাভেদ বুলে গিয়ে দলমত নির্বিশেষে আমাকে বিজয় করলে নিশ্চিতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন। তাই ভোলা আমার বাপের বাড়ি মার্কা আমার গরুর গাড়ি।
তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। ভোলার উন্নয়নে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ দীর্ঘদিনের অবহেলিত এই জেলাকে আধুনিকভাবে সাজানো হবে।
জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার ভোলায় এসে পার্থ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ, সংবর্ধনা ও প্রচারণায় অংশ নেন। এর আগে দুপুরের দিকে তাকে ঘিরে ভোলা-১ আসনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানান তারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার পর ভোলা বিএনপির বিরাট একটা অংশ বিরোধীতা করে। পরবর্তীতে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর এর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের পর আন্দালিব রহমান পার্থ আজ ভোলায় আসলে নেতাকর্মীরা তাকে ব্যাপক সংবর্ধণা দেয়। সংবর্ধণার জবাবে এই মন্তব্য করেন পার্থ।
ভোরের আকাশ/এনএস