পিরোজপুরে বাসায় ডেকে গৃহবধূকে ধর্ষনের অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের এক ব্যাক্তি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ গত বুধবার (২৪জুন) পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ব্যাক্তি মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামের আঃ রব শেখের পুত্র মো. শাহিন হাসান তমাল এবং তার সহযোগী একই এলাকার মো. কামাল শেখের ছেলে মো. সোহেল শেখ।
লিখত অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ২ বছর আগে "ওয়ার্ল্ড ডিশন" এর মহিলা ফিল্ড এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সেই সুত্র ধরে গত ০৫ জুন রাত ৯টার দিকে ভুক্তোভোগী ও তার স্বামীকে সোহেল শেখ মোবাইল ফোনে কল করে মাটিভাঙ্গা বাজারে ডেকে নিয়ে গৃহবধূর স্বামীকে বলে তোর বউ চাকুরিজীবী, তুইও চাকুরিজীবী, তোদের অনেক টাকা আছে বলে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ১৩ জুনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে।
টাকা না দিলে বাড়ি ঘর আগুন পুরিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। প্রাণ রক্ষার ভয়ে ভুক্তোভোগীরা ৩ লক্ষ টাকা জমা দেয়। সেই টাকা নেওয়ার পরেও তারা আরও টাকা দাবী করে।
গত ১৮ জুন তমাল গৃহবধূকে ফোন করে হিসাব-নিকাস আছে বলে বাসায় ডাকে। পরে গৃহবধু সোহেলের কাছে মাটিভাঙ্গা বাজারে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তমাল গৃহবধুর সাথে হিসাব নিকাস করতে চায়।
সোহেল গৃহবধুকে জানায় যে তাদের দাবীকৃত ৫ লক্ষ টাকার ৩লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে সেই ব্যাপরে হিসাব নিকাস করতে হবে। এবং আরও জানায় যে তুমি গেলে হয়তো বাকী টাকা আর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
সোহেল গৃহবধুকে তমালের বাসায় পাঠায় তমাল তাকে ঘরে বসতে বলে বাহির থেকে দরজার তালা বন্ধ করে দেয় এবং প্রায় ১০-১৫ মিনিট পরে এসে দরজা খুলে গৃহবধুর সাথে জোর-জবরদস্তি করে গৃহবধুর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে নির্যাতন (ধর্ষন) করে এবং তার মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও করে রাখে।
তমাল গৃহবধূকে হুমকি দেয় আমি যখন যেভাবে বলবো সেভাবেই আমার ডাকে চলে আসবি। এবং যা চাইবো সব দিবি। আর যদি তা না হয়, তবে তোর এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ভাইরাল করে দেব।
অভিযুক্ত তমাল ও সোহেল এর বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার মোবাইল নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও ফোন রিসিভ করেনি।তাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী জানান, এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। নাজিরপুর থানার ওসির কাছে অভিযোগ পত্রটি প্রেরণ করা হয়েছে।
নাজিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ এর কপি এখনও হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে বিস্তারিত জেনে জানাতে পারবো।
ভোরের আকাশ/ র.ই