শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মাসুদুজ্জামানের ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণা

আল আমীন অর্ণব, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:১৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচনাযোগ্য নামগুলোর একটি হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও ক্রীড়া সংগঠক মাসুদুজ্জামান মাসুদ। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে তিনি যেভাবে জনগণের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন তা স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি করেছে এক নতুন ধারা। ঠিক যেমনভাবে তিনি নিজেকে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কল্পনা করছেন, তেমনি ভোটারদের প্রত্যাশা ও চিন্তাকে গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তুলছেন নিজের প্রচারণার ব্যাতিক্রমী কৌশল। আর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, তাদের বাস্তব সমস্যা শোনা এবং প্রত্যাশার ক্যানভাস নামে এক অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিক মতামত লিপিবদ্ধ করা।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ছিল অন্যরকম এক পরিবেশ। ব্যস্ত নগরীর পথচারী, অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, দোকানি, শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ হঠাৎ করেই নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখতে পান একটি বড় সাদা বোর্ড, যার ওপরে লেখা প্রত্যাশার ক্যানভাস। রাজনীতির প্রচলিত প্রচারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই উদ্যোগ মুহূর্তেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কেউ লিখে গেছেন তাদের বহুদিনের ভোগান্তি, কেউ লিখেছেন শহরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে তাদের স্বপ্ন। আর এই সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছিলেন মাসুদুজ্জামান। তাঁর প্রতিনিধিরা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, পাশে দাঁড়িয়ে পড়ছিলেন লেখা সব বার্তা এবং এক রকম নীরব মনোযোগে সংগ্রহ করছিলেন জনগণের প্রত্যাশা।

শহীদ মিনারে আসা রিকশাচালক সামাদ মিয়া লিখেছেন তার একটাই উদ্বেগ। তিনি চান ফুটপাত হকারমুক্ত হোক এবং রাস্তায় স্থায়ী পুলিশিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যেন সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ ভয় ছাড়াই চলাফেরা করতে পারে। অন্যদিকে সদ্য চাকরির সন্ধানে থাকা কলেজপড়ুয়া ওয়াজিদ হাসান তোহা লিখেছেন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি।

তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ আগে কোনো প্রার্থী নেয়নি। এতে সাধারণ মানুষের ভাবনা সরাসরি প্রকাশ পায়। এবারের প্রত্যাশার ক্যানভাসে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে কর্মসংস্থান আর নিরাপত্তা। চাকরির সুযোগ না থাকায় তরুণরা হতাশ, আর মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দাপটে জনজীবন বিভ্রান্ত। এছাড়া বারবার উঠে এসেছে সরকারি হাসপাতালের সেবা উন্নয়ন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি বন্ধ, দূষণ কমানো এবং খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর কথা। অনেকেই লিখেছেন নারায়ণগঞ্জে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি। 

ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম লেখেন, শিল্পাঞ্চলের কাজের পরিবেশ উন্নত করা জরুরি এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির গুরুত্ব অপরিসীম। আবার কেউ লিখেছেন সরকারি হাসপাতালে সেবার মান ও দালাল মুক্ত চাওয়া। দূষণ মুক্ত নদীও ছিলো হোয়াইট বোর্ডে অন্যতম প্রত্যাশা। এই সব মতামত মাসুদুজ্জামানের প্রচারণাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রতিশ্রুতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের কথা শোনা।

তিনি জানান, তার এই প্রচারণা শুধু ভোটের জন্য নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নীতির ভিত্তি তৈরির অংশ। প্রতিটি বার্তা তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য নোট নিচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া পরিকল্পনাই প্রকৃত উন্নয়নের পথ তৈরি করে।

এদিকে তার এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই বলছেন, নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের উদ্যোগ এনে দিয়েছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মানে পোস্টারে স্লোগান নয় বরং বাস্তব সমস্যার সমাধানমূলক পরিকল্পনা। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, যদি প্রার্থীরা এভাবে মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তাহলে শহরের সমস্যাগুলো সহজেই শনাক্ত করা যেত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ত।

মাসুদুজ্জামানের কর্মীরা জানায়, তারা পরিবেশবান্ধব প্রচারণার জন্য প্লাস্টিক ব্যানার বা পোস্টার ব্যবহার করছেন না। প্রয়োজনীয় বার্তা কাগজের লিফলেটে তুলে ধরা হচ্ছে যা সহজে নষ্ট হয় এবং পরিবেশে ক্ষতি করে না। পথসভা বা মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা না করে তিনি ছোট ছোট দল নিয়ে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় গিয়ে মানুষের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরছেন। কীভাবে তিনি এলাকার উন্নয়ন করবেন, কোন কোন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেবেন, তা মুখোমুখি কথা বলে জানিয়ে দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জের নাগরিক সমাজ মনে করছে, এই পদ্ধতি নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে এক ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করবে। ভোটাররা শুধু প্রচারণা শুনবেন না বরং নিজেরাই অংশ নেবেন সমস্যার আলোচনা ও সমাধান ভাবনায়। এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে জনসাধারণের দূরত্ব কমাবে এবং জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করবে।

সব মিলিয়ে বলা যায় এই প্রচারণা শুধু একটি নির্বাচনী কৌশল নয় বরং নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত। একজন প্রার্থী কীভাবে মানুষের কথা শোনে এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন মাসুদুজ্জামান। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে শহর পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে। আর রাজনীতি ফিরে পাবে তার আসল অর্থ মানুষ ও সমাজের কল্যাণ।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

নারায়ণগঞ্জনির্বাচনী প্রচারণা

শেয়ার করুন: